ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

সেনেগালকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক


প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:০৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


সেনেগালকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে গতকাল রাতে সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়ামের পেনাল্টি নিয়ে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা দেখা দিয়েছে। ভিএআরের হস্তক্ষেপের ফলে তৈরি হওয়া দুটি ভিন্ন ঘটনা ফুটবল ভক্ত এবং বিশ্লেষকদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

 

ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সেনেগাল তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। কিন্তু বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পর ১২৫ মিনিটে (অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে) একটি বিতর্কিত পেনাল্টিতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।

 

 

এর আগে কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে হ্যারি কেন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। অনেক দর্শক হ্যারি কেনের বিরুদ্ধে ‘ডাইভ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

 

হ্যারি কেনের সেই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জয়ের পথে বাধা না হলেও বেলজিয়াম ও সেনেগাল ম্যাচে পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। ল্যামিন কামারার চ্যালেঞ্জে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমানস বক্সে পড়ে গেলে রেফারি সাইদ মার্তিনেজ ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

 

এই সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত সেনেগালের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয় এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পুরো ফুটবল বিশ্ব এই আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে।

কানাডিয়ান ধারাভাষ্যকার ক্রেইগ ফরেস্ট সম্প্রচার চলাকালীন বলেন, ‘আমার মনে হয় সেনেগালের প্রতি এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ হয়েছে। কেবল এই ম্যাচেই নয়, আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্সের ফাইনালেও তাদের বিপক্ষে এমন কিছু বড় সিদ্ধান্ত গিয়েছিল।’

সুইডেনের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ সরাসরি বলেছেন যে, আফ্রিকান দেশটিকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘আমি মোটেও মনে করি না বেলজিয়ামের ওটি পেনাল্টি ছিল। সেনেগালের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষটি ছিল অতি সামান্য, বেলজিয়াম খেলোয়াড় বিষয়টিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছে আর রেফারি তাতে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছেন।’

ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, ‘এটিই আধুনিক ফুটবলের সমস্যা। ফরোয়ার্ডরা এখন জানে যে ডি-বক্সের ভেতরে সামান্য স্পর্শ অনুভব করলেই পড়ে গিয়ে ভিএআরের মাধ্যমে পেনাল্টি আদায় করে নেওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মতে, পেনাল্টি হতে হবে একদম পরিষ্কার। এমন কোনো সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয় যেখানে মানুষকে বোঝাতে ১০টি রিপ্লে, তিনটি ভিন্ন অ্যাঙ্গেল এবং পাঁচ মিনিটের বিতর্কের প্রয়োজন হয়। নকআউট পর্বের এত বড় একটি ম্যাচের ভাগ্য এমন “সফট পেনাল্টি” দিয়ে নির্ধারিত হওয়াটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

ইব্রাহিমোভিচ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি সেনেগালের জায়গায় থাকলে এর বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানাতাম। এটি এখন একটি নিয়মিত ধারায় পরিণত হচ্ছে। প্রথমে মরক্কোর বিপক্ষে আফকন ফাইনাল, আর এখন আবার একটি বড় টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি তাদের বিপক্ষে গেল।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই হ্যারি কেন কঙ্গোর বিপক্ষে পেনাল্টি না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ইংল্যান্ড যখন ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন কঙ্গোর গোলরক্ষক লায়নেল এমপাসির সাথে এক সংঘর্ষে কেন পড়ে যান কিন্তু রেফারি পেনাল্টির সংকেত দেননি।

রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেনকে বেশ হতাশ ও হতবাক হতে দেখা যায়।

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার রেফারির সমালোচনা করে বিবিসিকে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমার মতে ওটি নিশ্চিত পেনাল্টি ছিল। কেন হয়তো বিষয়টিকে একটু বাড়িয়ে দেখিয়েছে, কিন্তু গোলরক্ষক যেভাবে এগিয়ে এসেছিল তাতে কেনের সাথে তার সরাসরি সংঘর্ষ হয়েছে।’

তবে একই সম্প্রচারে ওয়েইন রুনি ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে, হ্যারি কেন নিজেই নিজের পায়ে পা আটকে ফেলেছিলেন এবং তারপর গোলরক্ষকের ওপর কিছুটা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

রুনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সেখানে স্পর্শ ছিল, কিন্তু কেন নিজেই নিজের পায়ে হোঁচট খেয়ে গোলরক্ষকের ওপর দুই পা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাই রেফারি পেনাল্টি না দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। কেন তার ডান পায়ের বুড়ো আঙুল মাটিতে গেঁথে ফেলেছিলেন এবং গোলরক্ষকের দিকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।’

সবশেষে রুনি বলেন, ‘গোলরক্ষক যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাতে রেফারির পেনাল্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে কেন ইচ্ছে করেই তার ওপর পড়ে গেছেন। তাই আমার মতে এটি পেনাল্টি ছিল না।’


   আরও সংবাদ