ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬ ১৫:২৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বিএসইসির শীর্ষ পদে মাসুদ খানের নাম চূড়ান্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছরের জন্য মাসুদ খানকে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে বিএসইসির আগের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ পদত্যাগ করেন।
জানা গেছে, মাসুদ খানকে বিএসইসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় যুক্ত করতে সম্প্রতি আইনি সংস্কার আনে সরকার। আগে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে থাকার নিয়ম ছিল।
তবে ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এই বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। এর ফলে ৭১ বছর বয়সী মাসুদ খানের বিএসইসির প্রধান হওয়ার পথ সুগম হয়।
আরও জানা গেছে, মাসুদ খান ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করে এ পদে যুক্ত হতে হবে।
এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর ধরে দেশ ও বিদেশে ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যুক্ত আছেন বলেও জানা যায়।
গত মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএসইসিকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
বৃহষ্পতিবার সকালে কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর নিয়োগ পাওয়া সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এ বিষয়ে রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার দল কমিশনের নেতৃত্বের দায়িত্বগ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রাশেদ মাকসুদ দাবি করেন, তার নেতৃত্বে গত ২১ মাসে মার্জিন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার–সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন নামে দুটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের বিভিন্ন পদ্ধতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুয়ারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।