ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬ ১৫:২৯ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৩ বার
ঢাকা: চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছর কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের আত্মনির্ভরশীলতার প্রমাণ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এ বছর সারা দেশে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের লাখো খামারির পরিশ্রম, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সরকারের সময়োপযোগী নীতিসহায়তার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোরবানি হওয়া ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ছিল ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে—২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু।
গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে থাকলেও ছাগল ও ভেড়ার কোরবানিতে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এছাড়া খুলনায় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, রংপুরে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, বরিশালে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেটে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। বিপরীতে প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশু। ফলে বছর শেষে উদ্বৃত্ত রয়েছে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু।
গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০২টি। তখন প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি এবং কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু। এতে উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোরবানিকে ঘিরে খামার পর্যায়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, কন্ট্রোল রুম ও হটলাইন সেবা চালু রাখা হয়। অনলাইন ও অফলাইনে পশু বিপণনে সহায়তার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমে কোরবানির চাহিদা পূরণ হওয়া প্রমাণ করে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সফল কোরবানি ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখায় দেশের খামারি, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।