ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

দক্ষিণাঞ্চলের সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬ ১৪:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৫ বার


দক্ষিণাঞ্চলের সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ঢাকা: বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট নৌবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিআইডব্লিউটিএ।

 

মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্কসংকেত জারি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

 

হঠাৎ এ ঘোষণায় সদরঘাটে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। অনেক যাত্রী টিকিট কেটে ঘাটে এসে জানতে পারেন, লঞ্চ ছেড়ে যাবে না।

 

 

এতে তাদের বাড়ি যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার অনেকে ঘাটেই অপেক্ষা করছেন।

 

সদরঘাট এলাকায় দুপুর ১২টার দিকে ঝড়ো বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে দেখা যায়। এ সময় নদীতে ঢেউও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল। এ অবস্থায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় টার্মিনালে সারি সারি করে লঞ্চ নোঙর করে রাখতে দেখা গেছে। অনেক লঞ্চে যাত্রী বোঝাই থাকলেও ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বলেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় লঞ্চ চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। যাত্রীদের অপ্রয়োজনে ঘাটে না আসারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

সদরঘাট টার্মিনালে বরগুনা যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন মো. জাকির হোসেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সকালে আবহাওয়া ভালো দেখে পরিবার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি। সদরঘাট এসে শুনি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। শুধু বরগুনা লাইনের নয়, সব লাইনের লঞ্চ বন্ধ। এখন ঘণ্টা দুই অপেক্ষা করে দেখব। যদি লঞ্চ না চলে, তাহলে বাসে করে ভেঙে ভেঙে যেতে হবে। কী আর করব, আবহাওয়ার ওপর তো আর কারও হাত নেই।

 

লঞ্চ টার্মিনালের ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অফিসের বার্থিং সারেং মো. মামুন বাংলানিউজকে বলেন, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ৩২টি লঞ্চ এবং ঢাকায় এসেছে ৪৫টি লঞ্চ। গতকাল রাতে সব মিলিয়ে ৯১টির বেশি লঞ্চ দেশের ৩৭টি রুটে ছেড়ে গেছে।

 

আগামী ২৮ মে দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল সরকার। পরে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে আরও একদিন ছুটি বাড়ানো হয়।

 

এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন। আগামী ১ জুন থেকে সরকারি অফিস খুলবে। এর অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) সরকারি চাকরিজীবীদের অফিস করতে হয়েছে।

 

সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন সাধারণ ছুটি। এর আগে ২৬ ও ২৭ মে এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়। পরে গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা এবং ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।


   আরও সংবাদ