ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২৬ ১৬:৫৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

রোববার (২৪ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত এক মেগাওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এমন একটা উদ্যোগের উদ্বোধন করছি, যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয়, বরং এটা বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।

 

 

সংসদ ভবনে এই রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা স্পষ্টভাবে এই বার্তা দিতে চাই যে- বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে।

লুই কানের নকশায় নির্মিত সংসদ ভবনকে গণতন্ত্রের প্রতীক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আজ সেই ভবনের ছাদেই সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি- নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।

 

 

জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে, শিল্পায়ন বাড়ছে, বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

 

 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। এ কারণেই টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ।

সৌরবিদ্যুতের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌর বিকিরণ পায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে। গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সৌরশক্তি এখন কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান।

 

সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। 

 

প্রতিটি ছাদ, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিককে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই এগিয়ে এলে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ খুব দ্রুতই একটি সবুজ এবং টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিত ছিলেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

 

এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।


   আরও সংবাদ