ঢাকা, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

য় ঝুলে যেতে পারে স্থানীয় নির্বাচন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৩ মে, ২০২৬ ২০:০৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার


য় ঝুলে যেতে পারে স্থানীয় নির্বাচন

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। সাধারণ জনগণও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

সরকারের তরফেও আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন হতে পারে বললেও সীমানা জটিলতায় হতে পারে বিলম্ব।

 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের তরফে ভোটের একটা সময় সম্পর্কে ধারণা মিললেও অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে এখনও অগ্রগতি নেই।

 

এ ছাড়া সরকারকেও ভোটের জন্য ইসিকে চিঠি দিতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের।

কমিশন কেবল নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে থাকে।

 

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দলীয় প্রতীকে ভোটের আইন বাদ দেওয়ায় এবার নির্বাচন হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আদলে।

সেভাবেই তৈরি করতে হবে নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালা।

 

এরপর হালনাগাদ করতে হবে ভোটার তালিকা। আর ভোটার তালিকা হালনাগাদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমানা সুনির্দিষ্ট হতে হবে। কোন এলাকা কোন ইউনিয়নে, উপজেলায়, পৌরসভায় বা সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলো, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে সেই স্থানীয় সরকারের সীমানা, সেটার জন্য আবার পার্শ্ববর্তী অন্য স্থানীয় সরকারের সীমানা কী হবে, তা নির্ধারণ করে কমিশনকে জানাতে হবে। সীমানা সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য না পেলে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা যাবে না। কাজেই স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্বাচনের আগে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে।

ইতোমধ্যে ইসির মাঠ কর্মকর্তারা সারাদেশে নির্বাচন উপযোগী এলাকার তথ্য কমিশনকে জানিয়েছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই কমিশন এই তথ্য সংগ্রহ করেছে।

জানা গেছে, ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির মতো উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা, প্রায় ছয়শত ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১ জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী।

আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও দুই হাজার আটশ’র মতো ইউনিয়ন পরিষদে তফসিল ঘোষণার সময়োপযোগী হবে। সরকার ইতোমধ্যে ১২টি সিটিসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৩ নম্বর হিসেবে বগুড়া সিটি গঠিত হয়েছে। সেটার সীমানার কারণে কোনো ইউপি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সীমানা পরিবর্তন হলো কি না, তা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, থাকলে তা তফসিলের আগেই সুরাহা করতে হবে।

এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও কোনো পৌরসভা, উপজেলা বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকারের সীমানা নিয়ে মামলা হলে সে তথ্যও জানাতে হবে।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হলেও তার গেজেট এখনো পায়নি ইসি। এক্ষেত্রে গেজেট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন বিধিমালাগুলো সংশোধন করবে। বর্তমানে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্বে আইন সংস্কার কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক প্রমাণের বিষয়টি বাদ দেওয়া, ইভিএম বাদ, পোস্টার বাদ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচনী প্রচারে উপজেলায় এমপিদের অফিস ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই কমিটি। আইনের গেজেট পাওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নিতে কমিশন বৈঠকে সেগুলো তোলা হবে।

ইসি সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্ষা শেষ হতে সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে। এখনো অনেক কাগুজে কাজ বাকি। বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের প্রস্তুতির বিষয় আছে। কমিশনের বিধি-বিধান সংশোধনেও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। তার ওপর কোনো মামলা বা আইনি জটিলতা থাকলে নির্বাচন গড়াতে পারে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। এ ছাড়া শীত মৌসুমে ভোটের জন্যও উপযুক্ত পরিবেশ থাকে।

নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন; এ পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা সরকারের।

বাজেট প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ে এমন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরে করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে হতে পারে ইউপি নির্বাচন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতেই প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজেট পাস হওয়ার পর নতুন অর্থবছর শুরু হলে নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আলোচনায় বসবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সীমানা জটিলতা, মামলা এসব দেখেই আমাদের নির্বাচন করতে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে তার আগে আমাদের বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। প্রয়োজনে আমরা অংশীজনদের সঙ্গেও বসতে পারি।

তিনি বলেন, সীমানা জটিলতাসহ অন্যান্য কাজগুলো সরকার শেষ করে বললে আমরা তফসিল দিয়ে দিতে পারব। আমাদের কেবল ৪৫ দিন সময় দিলেই হবে।


   আরও সংবাদ