ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬ ১৮:০৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন

বিগত সরকারের আমলে একাধিকবার অনুমোদনের জন্য তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে এসে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

 

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসঙ্কট দূর করতে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়ছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়।

 

বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক সভায় প্রথম কোনো মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হল।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেব বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার এ প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারি অর্থে।

 

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গত ৬ মে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপের কাজ শেষ হয়ে আসার কথা জানিয়েছিলেন।

 তিনি বলেছিলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

জানা গেছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে যে শুষ্ক ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়, তা রোধ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। 
নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে প্রকল্প নথিতে।

সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

এ প্রকল্পের মূল অংশ পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক রয়েছে।

এ ছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই মেগা প্রকল্পে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারাজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদিত হয়নি।

একই দিন পদ্ম ব্যারেজ ও ‘ছোটমনি নিবাস’ নির্মাণসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিদ্যুৎ খাতের কয়েকটি প্রকল্প। এছাড়া রয়েছে প্রতিরক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ আরও কয়েকটি খাতের একটি করে প্রকল্প। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে ৫টি।মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ছিল ১টি। এই ৯ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।


   আরও সংবাদ