আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৫ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিজুড়ে সামরিক স্থাপনায় চালানো সমন্বিত হামলায় নিহত হয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খবরে বলা হয়, রোববার (২৬ এপ্রিল) মালি থেকে এ খবর আসে। গতকাল শনিবার মালির রাজধানীর নিকটবর্তী গ্যারিসন শহর কাটিতে সাদিও কামারার বাসভবনে একযোগে হামলা চালানো হয়।
হামলায় অংশ নেয় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা।
২০২০ ও ২০২১ সালে পরপর দুই দফা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন কামারা।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দেশটির সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনাও দেখা হচ্ছিল। কামারার মৃত্যু দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করেন তারা।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কাটিতে কামারার বাসভবনে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরটি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানেই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আসিমি গোয়িতা বসবাস করেন।
হামলায় অংশ নেয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সংগঠন জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং তুয়ারেগদের আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ)। এত সুরক্ষিত এলাকাতেও তারা হামলা চালাতে সক্ষম হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট গোইতা নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। হামলার সময় তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি এখনও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।
একই সময়ে রাজধানী বামাকোসহ গাও, কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরেও হামলা চালানো হয়। কিদালে রোববারও ভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হামলার ২৪ ঘণ্টা পরও অভিযান চলমান রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি জানান, আগামী দিনগুলোয় বিভিন্ন কৌশলগত এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে আরও সংঘর্ষ বাড়তে পারে। আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও তারা এখন একসঙ্গে কাজ করছে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই সমঝোতার বাস্তব প্রয়োগ।
এদিকে, হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের মহাসচিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা বিষয়ক ব্যুরো (ইউএস ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স)।