আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রস্তাব দিয়েছেন; এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। যদিও প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসেনি, তবুও মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব কমিয়ে আনা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে— ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো (নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো) স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস করা; সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকির আওতায় আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন (অর্থ ও অস্ত্র সহায়তাসহ) বন্ধ করা।
এছাড়া ইরানকে তাদের বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। এমনকি দেশের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে বিদ্যমান উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের কথাও বলা হয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সব সময় উন্মুক্ত রাখার শর্তও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা কেবল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে।
তবে এসব কঠোর শর্তের বিপরীতে ইরানের জন্য কিছু সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শান্তি চুক্তিতে সম্মত হলে ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বুশেহর শহরে একটি পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন অন্তত এক মাসের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কিংবা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।
সূত্র: বিবিসি