আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এদিকে কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলায় নিহতদের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) কাবুলের দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আফগান তালেবান সরকারের দাবি, এ হামলায় ৪শ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন।
তিন সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা।
এ ঘটনার পর বুধবার কাবুলে নিহতদের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রকে লক্ষ্য করেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে থাকা কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে তাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে এবং এসব গোষ্ঠীকে তালেবান সরকার আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পাকিস্তানের ভেতরে কোনো সীমান্তপারের হামলা, ড্রোন হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে, তাহলে অভিযান পুনরায় জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
একসময় মিত্র থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। চীনের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গত মাসে আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যখন পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।