ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। আইন না জেনে বা আবেগের বশে এসব হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে বিপাকে পড়েছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। এ কারণে বিভিন্ন দেশে তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পরপরই ইরান প্রতিবেশি দেশগুলোতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। সেই হামলার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। কেউ কেউ আবার হামলার দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আইন অনুযায়ী মিসাইল ও ড্রোন হামলার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
অনেক প্রবাসী না জেনেই এসব ভিডিও প্রকাশ করেছেন। আর এ কারণেই এখন তারা গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন।
দফায় দফায় সতর্ক বার্তা
ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন প্রভৃতি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বলা হয়, প্রবাসীরা যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিসাইল হামলার ভিডিও-ছবি কোনোভাবেই প্রকাশ না করেন। কিন্তু অনেকেই তা শোনেননি বা মানেননি।
সেই ঘটনাই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই প্রবাসীদের খুঁজে খুঁজে গ্রেপ্তার করছে।
আরব আমিরাতের কড়া আইনে বিপাকে বাংলাদেশিরা
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাইয়ের বাংলাদেশ কন্স্যুলেটও সেখানকার বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করেছিল। আমিরাতের সাইবার ক্রাইম আইন ও অন্যান্য বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আমিরাতের কোনো সামরিক স্থাপনা, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন, ড্রোন বা মিসাইল ইন্টারসেপশন অথবা তার কোনো ধ্বংসাবশেষ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে বা এসব বিষয়ে অন্য কারো তোলা ছবি বা ভিডিও, রিলস সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে, গুজব ছড়ালে, ভিত্তিহীন তথ্য শেয়ার করলে বড় অংকের আর্থিক জরিমানা, জেল বা অন্যান্য শাস্তি হতে পারে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য রয়েছে স্থায়ী বহিষ্কারের ঝুঁকিও।
যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ আইন ভঙ্গ করেছেন, তারা এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
বাহারাইনে গ্রেপ্তার প্রবাসী বাংলাদেশি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতোই কড়া আইন রয়েছে বাহরাইনেও। সে দেশেও মিসাইল ও ড্রোনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোও নিষেধ।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইরানের পক্ষে পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে এরইমধ্যে বাহরাইনে এক প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া এই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর।
অতীতেও গ্রেফতার
মধ্যপ্রাচ্যে স্থানীয় আইন না মানার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আরব আমিরাতের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সেই ঘটনার দায়ে ৫৭ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের ১০ থেকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাদের সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং তারা দেশে ফিরে আসেন।
প্রবাসীরা যা বলছেন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিসাইল হামলার ভিডিও ছড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আবুধাবিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, মিসাইলের ছবি- ভিডিও প্রকাশ করা আমিরাতে পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তবে অনেক বাংলাদেশি তা জানে না। আবার অনেক বাংলাদেশি এখানে নতুন এসেছেন। তারাও আমিরাতের আইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। সে কারণেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিসাইলের ছবি ও ভিডিও প্রচার করে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আরো বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছিলো। তবে অনেকেই আইনের তোয়াক্কা না করে ফেঁসে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিডিও ও ছবি প্রকাশের ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আইন ও নিয়ম কানুন আলাদা। এটা আমাদের দেশের মতো নয়। সেখানে প্রচুর বাংলাদেশি থাকেন। কিন্তু অনেকেই সেসব দেশের আইন সম্পর্কে অবহিত নন। তাদের মধ্যে স্থানীয় আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর প্রবাসীদেরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলার ছবি, ভিডিও, ভিত্তিহীন বা গুজব প্রচার করা, বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দেওয়া অথবা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটা করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রবাসীদের অবশ্যই আমিরাতের স্থানীয় আইন মেনে চলতে হবে।