আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার
হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। বাজারের অস্থিরতা কমাতে বুধবার (১১ মার্চ) সংস্থাটির ৩২টি সদস্য দেশ তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড় করার ঘোষণা দিয়েছে।
আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল প্যারিসে এক ভাষণে বলেন, এটি একটি বড় পদক্ষেপ যা তাৎক্ষণিক সংকট লাঘবে সাহায্য করবে। তবে বাজার স্থিতিশীল করতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া সবচেয়ে জরুরি।
ইতোমধ্যে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া তাদের জাতীয় মজুদ থেকে তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তাদের আমদানিকৃত তেলের ৭০ শতাংশই এই প্রণালী দিয়ে আসে। সংকট মোকাবিলায় আগামী সোমবার থেকে তারাও মজুদ তেল সরবরাহ শুরু করবে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘১ লিটার তেলও’ পার হতে দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জলপথটি বন্ধ রাখায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো জাহাজকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তেলের দাম কৃত্রিমভাবে কমানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। বুধবারও ওমান উপকূলে একটি থাই পতাকাবাহী জাহাজসহ তিনটি জাহাজে প্রজেক্টাইল হামলা চালানো হয়েছে।
কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান বুয়েগার আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে ইউরোপ বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়বে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ বিপদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অচলাবস্থার কারণে সাব-সহারা আফ্রিকার মতো অঞ্চলগুলোতে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি মানবিক সহায়তার খাতিরে এই জলপথটি উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।