ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শনিবারের ছুটি বাতিলের গুঞ্জন থাকলেও বাস্তবতা চ্যালেঞ্জের

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৬ বার


শনিবারের ছুটি বাতিলের গুঞ্জন থাকলেও বাস্তবতা চ্যালেঞ্জের

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারেও নিয়মিত অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য শনিবার কাজ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবুও প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে—এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে বিএনপির পূর্ববর্তী শাসনামলে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি না থাকার নজির থাকায় এমন আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

অনেকের ধারণা, বর্তমান সরকার চাইলে সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের পরিবর্তে আবারও ছয় কর্মদিবস চালু করতে পারে।

 

তবে প্রশাসন ও সংস্থাপন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সম্ভাবনাকে আপাতত বাস্তবসম্মত মনে করছেন না। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতায় সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে একদিন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব—জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর প্রভাব বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেক্ষেত্রে দুই দিনের পরিবর্তে একদিন সাপ্তাহিক ছুটি হলে সরকারি অফিস-আদালতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বেশ কিছু ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় আসেন। সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার কমানো, নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া, প্রথাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করা—এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজে শনিবার অফিস করছেন, কিন্তু মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে সেগুলোতে শনিবার এখনও সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবেই থাকছে।

এদিকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি সব বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহন ও অফিস পরিচালনায় যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে দুই দিনের ছুটি বহাল রাখা এখন বেশি যৌক্তিক।

 

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সীমিত পরিসরে বেশ কিছু সরকারি দপ্তরে শুক্রবারের পাশাপাশি শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। অফিসে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এবং যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যেই তখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে একদিন করা হলে তা কতটা সুফল বয়ে আনবে—সেটি সরকারকে গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। শুধু জ্বালানি সাশ্রয় নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হলেও ইউরোপ ও আমেরিকাসহ অধিকাংশ দেশে শনি ও রবিবার ছুটি পালন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় তিন দিনের কর্মবিরতির জটিলতা তৈরি হয়।

মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম কবীর বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটির সময়সূচি অনেক সময় জটিলতা তৈরি করে। অন্যান্য দেশে যখন পাঁচ কর্মদিবস চালু থাকে, তখন বাংলাদেশে তিন দিনের ছুটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শনিবার ছুটি বাতিল করলেও আন্তর্জাতিক সময়সূচির সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় হবে না। কারণ অনেক মুসলিম দেশেও বর্তমানে শনি ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি পালনের প্রচলন রয়েছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে রোববার সাপ্তাহিক ছুটি পালন করা হতো। ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি চালু করা হয়। তবে ১৯৮৫ সাল থেকে আবার শুধু শুক্রবার ছুটি রাখা হয়।

পরে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবারও শুক্র ও শনিবার দুই দিনের ছুটি চালু হয়, যা ২০০১ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে শনিবারের ছুটি বাতিল করে শুধু শুক্রবার ছুটি চালু করে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সীমিত আকারে আবারও শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনের ছুটি চালু করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির ব্যবস্থাই চালু রয়েছে।


   আরও সংবাদ