আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে ‘স্মরণকালের ভয়াবহতম’ হামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। খবর আল জাজিরার।
এক সংবাদ সম্মেলনে পিট হেগসেথ ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন আঘাত’ হানবে। তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও হামলা চালানো হবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার ফোনালাপের কথাও উল্লেখ করেন। হেগসেথ বলেন, ওই আলোচনায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার কোনোভাবে জড়ানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাকে গুরুত্ব দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করা।
ইরানের ওপর হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমাতে পেন্টাগন কী পদক্ষেপ নেবে? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।
তার দাবি, বেসামরিক মানুষকে যাতে লক্ষ্যবস্তু করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সতর্কতা পৃথিবীর আর কোনো দেশ নেয় না।
এদিকে ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে সে বিষয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভিন্নধর্মী ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, সময়ের দিক থেকে যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা রাখে।
তবে পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর হামলা চালাবে। একই সংবাদ সম্মেলনে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় যুদ্ধ কি এই সপ্তাহেই শেষ হতে পারে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, তবে খুব শিগগিরই।’
অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে সময়সীমা নিয়ে নমনীয় অবস্থান নেওয়ার নজির রয়েছে ট্রাম্পের। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক জনমতের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে তাকে।
যদিও শুরুতে ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলা হলেও সেটি এখনো বাস্তবায়নের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা এবং শিল্পঘাঁটি ধ্বংস করার দিকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কেন্দ্রীভূত। ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ড্রোন তৈরির কারখানাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
জেনারেল কেইনের দাবি, যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে ইরানের মাইন পেতে রাখা নৌযানগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে ৫০টির বেশি ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে বেশি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা প্রমাণিত হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। শুরুর দিকের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে এবং অভিযান শুরুর পর থেকে একমুখী ড্রোন হামলার হার ৮৩ শতাংশ কমেছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী কীভাবে নিরাপত্তা দিতে পারে, সেসব বিষয় নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে বলে জানান কেইন।