ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রশ্ন উঠেছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলেও বাস্তবে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে-যা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ‘বেনিফিশিয়ারি’ হলো বিএনপি। কিন্তু এখন তারা সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গেই গাদ্দারি করছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
বিরোধী মতের ওপর, বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রাতের অন্ধকারে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে তারা এখন সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গেই গাদ্দারি করছে।
তারা জনগণের ম্যান্ডেটের তোয়াক্কা না করে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশে আস্ফালন দেখাতে শুরু করেছে। তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা রোজাকে ফরজ করেছেন, যাতে মানুষ তাকওয়া অর্জন করতে পারে। এগারো মাস আল্লাহ মানুষকে অসংখ্য নিয়ামতে ভরপুর করে রাখেন।
এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ যেন উপলব্ধি করতে পারে যে, বাকি এগারো মাস তারা কত বড় নিয়ামতের মধ্যে ছিল। রমজান আমাদের সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম, তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ মু. ইকবাল এবং তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. হিফজুর রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।