ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তাসনিম জারার প্রশ্ন, বাস্তবায়ন করবেন কীভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:২৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তাসনিম জারার প্রশ্ন, বাস্তবায়ন করবেন কীভাবে

মানুষকে যাতে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে না হয়, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে –স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানতে চান, এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সর্বজনীন করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

 

মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেন, বক্তব্যটি ইতিবাচক হলেও বাস্তবতা বিবেচনায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৭ জন ডাক্তার আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এখনই যদি বেশি সংখ্যায় মেডিকেল শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়, তাহলেও একজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক হতে কমপক্ষে ৬ থেকে সাড়ে ৬ বছর সময় লাগবে।

আর বিশেষজ্ঞ হতে সময় লাগে আরও ৫ থেকে ৮ বছর। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসক সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

 

ডা. জারা বলেন, ডাক্তার বাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদে ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য ১০ থেকে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।

সে ধরনের রূপরেখা কি আছে?

 

তিনি আরও বলেন, যদি সরকারের উদ্দেশ্য হয় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিয়ে ডাক্তারদের গ্রামে পাঠানো, তবে সেটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও প্রায় ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক।

গ্রামে চিকিৎসকদের কাজ করতে অনাগ্রহের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন –কম আয়ের সুযোগ, মানসম্মত বাসস্থান ও সন্তানের শিক্ষার অভাব, পেশাগত উন্নতির সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি।

ডা. জারার মতে, শুধু নির্দেশ দিয়ে ডাক্তারদের গ্রামে পাঠানো যাবে না। গ্রামে মানসম্মত বাসস্থান, বিশেষ ভাতা, পদোন্নতিতে অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

 

এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দুটি আইসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, এটি কি তথ্যভিত্তিক জাতীয় অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা –তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বিদেশমুখী চিকিৎসকদের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জারা বলেন, প্রতি বছর বহু মেধাবী চিকিৎসক উন্নত কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও ভালো বেতনের জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এই ‘ব্রেইন ড্রেইন’ ঠেকাতে কার্যকর পরিকল্পনা না থাকলে চিকিৎসক সংকট আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, মন্ত্রী একটি সুন্দর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা চাই স্বাস্থ্য খাত সফল হোক। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সময়সীমা ও কর্মপদ্ধতি জানতে চাই।

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার –এ কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে টেকসই সমাধান।


   আরও সংবাদ