ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ক্রিমিনাল গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৮:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


 ক্রিমিনাল গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আমরা চাই বাংলাদেশটা বদলে যাক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আহ্বান করছি, যে ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলানোর কথা বলেছেন, আমরা তা কাগজে-কলমে নয়, অ্যাকশনে দেখতে চাই। আপনার দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কীভাবে মোকাবিলা করবেন, তার ওপর নির্ভর করবে আপনি ক্ষমতায় গিয়ে গভর্নেন্সে সফল হবেন কি না। আপনার দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিশ্চিত থাকুন, আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

 

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে নির্বাচনে ভোটের হিসাবে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তিনি ভোটের মাঠের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলেন, ভোটের দিন পরিস্থিতি এমন ছিল যে বাবুগঞ্জের চর দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদীর দিকে নজরই দিতে পারিনি। মুলাদীতে অবস্থা এমন হয়েছে যে ব্যালটে সিল দেওয়ার কথা আমাদের এজেন্টরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে দুই দিন পরে জানিয়েছে।

নিজ চোখে নির্বাচনের বাস্তবতা দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে জাল-জালিয়াতি ও চর দখল হয়েছে।

আমরা দেখেছি, গণভোটের সংখ্যার তুলনায় এমপি হওয়ার ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি। অথচ ভোট একসঙ্গে দুটি দিতে হয়েছে। তাহলে গণভোট কম হওয়া এবং সাদা ব্যালট বেশি থাকা মানে এখানে জালিয়াতি হয়েছে।

 

প্রশাসনের একাংশ ও যৌথবাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

তারা অসাধারণ পেশাদার সেবা দিয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে, ভোটের দিন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একটি বড় অংশ ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রশাসনের ভেতরে আন্তরিক লোক ছিল না, তা নয়।

 

তিনি বলেন, ভয়ে ভোট দিতে যায়নি এমন বার্তাও আমাদের কাছে এসেছে। অনেকে নিজে ভোট দিয়ে এসে জানিয়েছেন, আমি গেছি কিন্তু মা আর স্ত্রী ভয়ে যাননি।

আবার ভোট দিতে গেলে রামদা নিয়ে এসে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এরপর গেলে কোপানো হবে। আমার হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন এলাকা ছাড়া, পলাতক।

 

তিনি বলেন, বিএনপির একাংশ নেতাকর্মী নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদে রূপ নিচ্ছে। জনাব তারেক রহমান, আপনাকে হুঁশিয়ার করছি, সতর্ক করছি। আপনি যদি সত্যিই বাংলাদেশ পরিচালনা করতে চান, নেতৃত্ব দিতে চান, তাহলে আপনার দলের ভেতরে যারা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদে পরিণত হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করুন। নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আপনি গুরুতরভাবে ব্যর্থ হবেন এবং আপনার পতন আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার চেয়েও খারাপ হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই। যেখানে কেউ কাউকে ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করবে না, আবার ভোট দেওয়ার পর তার বাড়িতে রামদা পাঠানো হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির আজ যারা গুন্ডামি-মাস্তানি করছে, তারাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেতে-পাটক্ষেতে ছিল। নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও, মজলুম থাকার পরও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে একই জুলুম করছে। তারা ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের কথা ভুলে গেছে। ভোটের শতাংশ যাই হোক, ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের আছে, এটা তারেক রহমান ও বিএনপিকে মাথায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমার বাড়িতেও লোক পাঠানো হয়েছে। তাহলে কর্মীদের অবস্থা কী? চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, তারা ২৪-এর কথা ভুলে যাবেন না। আজ আমার চর দখল করে নিয়েছেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ৬১ হাজার মানুষ চুপচাপ বসে থাকবে। তারা নিজেদের চোখের সামনে দেখেছে বিজয় কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যালট জালিয়াতির সময় প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মাথায় বন্দুক ধরা হয়েছে, রামদা দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনা ঘটছে কিন্তু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, কারণ সবাই ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। একই জুলুম চলছে, অথচ এই বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন ছিল না। ডিসেম্বর থেকে দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির প্রতি বায়াসড হয়ে গেছে। প্রশাসনের কে কোন ভূমিকা পালন করেছেন, তার হিসাব একদিন জনগণকে দিতে হবে। কারণ কোনো জুলুম অনাদৃত থাকবে না। যে প্রশাসন একটি নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তারা গ্রামে গ্রামে নাগরিকদের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে?


   আরও সংবাদ