ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৫২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাগামহীন অর্থের ব্যবহার হচ্ছে। প্রচারণার অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার অনেক আগেই প্রার্থীদের নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সফারেন্সি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমীক্ষায়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে সংস্থাটির পরিচালক মাাফুজুর রহমান এতথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রয়োগে দৃশ্যমান দুর্বলতা দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে কমিশন অনেক ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় পরিসরে আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন এবং অনিয়ম ঘটলেও ইসি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশও নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রাহকদের হয়রানি ও হুমকির ঘটনাও উদ্বেগজনক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের সমন্বয়হীনতা, আইনি বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক চাপ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন।
গণভোটে সরকারের অস্পষ্ট অবস্থান ও আইনি জটিলতা
গণভোট ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে সরকার শুরু থেকেই দোদুল্যমান অবস্থানে ছিল।
উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তা গণভোটের প্রশ্ন ও উদ্দেশ্যকে আরও অস্পষ্ট করেছে।
একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলেছে। সবচেয়ে বড় আইনি বিচ্যুতি হিসেবে ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন গণভোটকে ‘নির্বাচন’-এর সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করছে। অথচ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী গণভোট কোনোভাবেই নির্বাচনের সমার্থক নয়, কারণ এখানে কোনো ব্যক্তি বা আসনের পক্ষে ভোট দেওয়া হয় না।
তিনি গণভোট বিষয়ে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার প্রযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচনী প্রচারণা: টাকা ও ধর্মের ব্যবহার এবং নারীর অবমাননা
একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের তালিকা সংগ্রহ এবং সেই দলের হয়ে কাজ করার জন্য তাদের অর্থ, বিবিধ সুবিধা, হুমকি প্রদানের মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টির প্রয়াসের তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির পরিচালক মাহফুজুর রহমান।
রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার; নারীকে অবমাননা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট এবং তা নিয়ে বিতর্ক এবং সামাজিক যোগযোগমাধ্যম হ্যাকিংয়ের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচনের মাঠে সুপ্ত, গুপ্ত এবং চাঁদাবাজি
টিআইবির সমীক্ষায় উঠে আসে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘সুপ্ত’, ‘গুপ্ত’ এবং ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক জোটের প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।