ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৩৩ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৭ বার


প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে। এ তথ্য জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অব এনগেজমেন্ট কী হবে? বিজিবি বলেছে তারা কোনো অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করবে না।

এক্ষেত্রে আপনারা কী করবেন, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে রুলস অব এনগেজমেন্ট নির্ধারণ করা আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অব এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে আমাদের দায়িত্ব পালন করে থাকি। যদি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয়, তাহলে রুলস অব এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটি প্রক্রিয়া আছে, সেটি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ভোটের দিন আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কী ভূমিকা থাকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি।

বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গিয়ে আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে বা কার্যক্রম না থাকার কারণে এই নির্বাচন থেকে বাইরে আছে এবং দলটির অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ভার্চুয়াল জগতে দেখা যাচ্ছে, দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক থ্রেট বা হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে বা না যাওয়ার বিষয়ে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনো থ্রেট পেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আমি আলোচনায় যাব না। যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি দরকার, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

 

আর মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি নির্বাচনে। মানুষের মাঝে এখনো একটি সংশয় রয়েছে নির্বাচনটি কীভাবে হবে, পরিবেশ কতটুকু অনুকূল হয়েছে বা ভোট হবে কি না। এখানে সরকারের কোনো ব্যর্থতা দেখছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করার জন্যই সেনাবাহিনী প্রধান সব বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছেন, একটি হলো তাদের আস্থা দেওয়া যে যেকোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত, আর দ্বিতীয়টি হলো জনগণকে আস্থা দেওয়া এবং স্পষ্টভাবে বার্তা দেওয়া যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত।

 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবসময় একটি সংবেদনশীল এলাকা। শুধু বর্তমানে নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়েও সেখানে আমাদের সেনা মোতায়েন সার্বক্ষণিকভাবে থাকে। যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নেওয়া হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে। এ কারণেই আমরা এবার উপজেলা ভিত্তিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করেছি, যাতে বিপুলসংখ্যক পেট্রোল একসঙ্গে মাঠে থাকতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধেও আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।

নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনীর মোতায়ন থাকা অবস্থায় যদি ভোটার আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং নির্বাচন-পরবর্তী ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সেনাবাহিনী মাঠে গণতান্ত্রিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল, এটি কীভাবে প্রমাণ করবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী এবং দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত। সেনাপ্রধান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জনগণ আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ পেয়ে যাবে।

একটি রাজনৈতিক দলের দুজন শীর্ষ নেতার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই হ্যাকারদের বিষয়ে সেনাবাহিনীর আইটি সেকশন কোনো ভূমিকা রাখছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে আমরা যেন এ ধরনের আক্রমণের শিকার না হই, সে প্রস্তুতি নিয়েছি। এর বাইরে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি, সেনাবাহিনীর আইটি সাইটগুলো যাতে হ্যাক না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে নিজস্ব কোনো থ্রেট অ্যানালাইসিস আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট সেনাবাহিনীর কাজের প্রথম ধাপগুলোর একটি। আমরা অবশ্যই থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করেছি এবং তদনুযায়ী মোতায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা নন-লিথাল ওয়েপন ও রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে বাহিনীকে সজ্জিত করেছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও কিছু রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট সেনা সদস্যদের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।


   আরও সংবাদ