ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বাবার বাড়ির দরজায় তার রোপণ করা স্মৃতিচিহ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:০০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০৬ বার


বাবার বাড়ির দরজায় তার রোপণ করা স্মৃতিচিহ্ন

ফেনী: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইহলোকে নেই, কিন্তু তার রোপণ করা নিম বৃক্ষটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীতে তার পৈতৃক বাড়ির দরজায়।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া পৈতৃক বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে এলে বাড়ির দরজায় দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে অত্র গ্রামের কৃতি সন্তান খালেদা জিয়া নিজ হাতে এ নিম বৃক্ষটি রোপণ করেন। পরিচর্যায় বৃক্ষটি বড় হলে এর গোড়ায় খালেদা জিয়ার নামটি টাইলস দিয়ে লেখা আছে। এই বাড়িতে খালেদা জিয়ার অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া ঘরের ভেতরে বসানো চেয়ারটি, বেগম জিয়ার বিশ্রাম নেওয়ার ছোট্ট সেই খাটটি, ঘরের ভেতরের খাবারের টেবিল, সবকিছুতেই যেন লেগে আছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া।

জানা গেছে, সবশেষ ২০০৮ সালেও ফেনীর ফুলগাজীতে বাবার বাড়িতে এসে দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করে শুরু করেন নির্বাচনী প্রচারণা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে আজ সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে রাজ্যের নীরবতা। কাঁদছেন বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।



বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি ছোটদের অনেক বেশি আদর করতেন। তাকে হারিয়ে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি কখনো পোষাবে না।

নিজ পৈতৃক নিবাসে জনসাধারণের জন্য বেগম জিয়া নির্মাণ করেছেন মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল, কলেজসহ বহু স্থাপনা। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ফুলগাজীসহ ফেনী জেলা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।



খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম পুতুল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার দাদা হাজী সালামত আলী, নানা জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার।

দিনাজপুর শহরের মুদি পাড়ায় তাঁর জন্ম। আদি পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি।

খালেদা জিয়া পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এর পর থেকে তিনি খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস শুরুর আগে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালের আগস্টে যখন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়, তখন জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডিএফআইয়ের কর্মকর্তা হিসেবে তখন তিনি দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ২৯ ডিসেম্বর সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল।


   আরও সংবাদ