ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ঢলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২২ বার


ঢলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল

দুই দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ফসল ঘরে তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

 

কৃষকেরা জানান, গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আগাম বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের পাশাপাশি জেলার হাওর এলাকার বাইরের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেক কৃষক চরম হতাশায় পড়েছেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে।

এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। হাওরের প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, বাকিটা হাওর এলাকার বাইরে রয়েছে।

 

কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার কেওলার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, গত দুই দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি বেড়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একইভাবে রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার হাওর ও নিম্নাঞ্চলের ধানখেতও প্লাবিত হয়েছে।

কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান ডুবে গেছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করেছি। এখন সেই ঋণ কীভাবে শোধ করব, বুঝতে পারছি না। এমন ক্ষতি হবে ভাবিনি।

কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে ধান চাষ করেছিলাম। প্রতি একরে প্রায় ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কাটার সময়ই ধান ডুবে গেল।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং আবহাওয়া সহকারী আনিসুর রহমান বলেন, ২৭ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২৮ এপ্রিল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওরের ধান কাটা প্রায় শেষের দিকে ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধান ডুবে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।


   আরও সংবাদ