ঢাকা, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ক্ষতি বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:০১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার


বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ক্ষতি বেশি

বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশের বেশি ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কিছু সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

বিশেষ করে বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।

 

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল হলিডে ইন-এ ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ইতিবাচক দিকগুলোও সামনে আনা প্রয়োজন। অনেক বিচারক দিনরাত পরিশ্রম করে দায়িত্ব পালন করছেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।

কিন্তু তাদের সেই অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না। বিচার বিভাগের নেতিবাচক দিকগুলো আলোচনায় এলেও সৎ ও নিষ্ঠাবান বিচারকদের কাজও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা উচিত।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি যতটা ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি। বিচারকদের মেধা, যোগ্যতা ও সততার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। একজন বিচারক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর সরকারের তার ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকে না। অধস্তন বিচার বিভাগের বিচারকরাও নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। বিচারিক কাজে সরকারের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা নেই।

তবে অতীতের কিছু বিচারিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, থার্টিন অ্যামেন্ডমেন্টের মতো রায়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা ছিল। 

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন কথা বলতে হবে, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ হত্যার এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঘটনা নিয়ে নীরব রয়েছেন। এ ধরনের নীরবতা থেকে বেরিয়ে এসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের অখণ্ডতা ও সততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। বিচারিক পর্যালোচনার নামে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে। থার্টিন অ্যামেন্ডমেন্টের রায় এর একটি উদাহরণ।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনার সময় আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতা পুনর্বিবেচনার দাবি এসেছে।

বিচার বিভাগের জবাবদিহি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে গুমের ঘটনায় বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি। এ ধরনের ঘটনায় আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষতা, নির্লোভ ও নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় তাদের এ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এ ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের করণীয় থাকলে বাস্তবতার নিরিখে সহযোগিতা করা হবে।

মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে টিআইবির দেওয়া সুপারিশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে অনেক সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

বিচারকদের দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের নিজেদের মধ্যে সচিবদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা উচিত নয়। নিজেদের স্বতন্ত্র পেশাগত অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। 


   আরও সংবাদ