ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার
পার্বত্য জেলা রাঙামাটি শহরে চলাচলের অন্যতম মাধ্যম অটোরিকশা (সিএনজিচালিত)। স্থানীয় যাত্রী ও পর্যটকেরা এসব অটোরিকশায় চলাচল করেন।
অনেক সময় চালকদের রূঢ় আচরণ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে পর্যটকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। দুর্ঘটনার সময় এসব যানবাহন ও চালকদের সম্পর্কে তথ্য না থাকায় পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খেতে হয়।
রাঙামাটিতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা এবং যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিবন্ধিত অটোরিকশা ও চালকদের নিয়ে ডিজিটাল পরিবহন ডাটাবেজ চালু করেছে পুলিশ। এ ডাটাবেজের আওতায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪১৬টি নিবন্ধিত অটোরিকশা এবং ১ হাজার ৬০০ জন চালকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোতে নিরাপদ কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হয়েছে। যাত্রী ও পর্যটকেরা মোবাইল ফোন দিয়ে এসব কোড স্ক্যান করে চালকের ছবি, নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন।
পাশাপাশি পরিবহনসেবার মান, চালকের আচরণ ও গাড়ির গতির বিষয়ে রেটিং দিতে পারবেন যাত্রীরা। তাঁদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে চালকদের সামগ্রিক রেটিং নির্ধারণ করা হবে। জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ রেটিং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ করে। কোনো অভিযোগ বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রাঙামাটির অটোরিকশাচালক মো. শাহ আলম বলেন, পুলিশ আমাদের চালক ও অটোরিকশাগুলোকে ডিজিটাল তালিকায় নিয়ে এসেছে। এখানে কোনো অবৈধ অটোরিকশা কিংবা ভুয়া চালক নিবন্ধিত হতে পারেননি। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক।
রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটক জাফর সবুজ বলেন, এখানে ভ্রমণে এসে নতুন কিছু দেখলাম। বেশির ভাগ অটোরিকশায় নিরাপদ কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্টিকার লাগানো হয়েছে। অটোরিকশায় ওঠার আগে নিজের মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করে উঠেছি। ঢাকা শহরে এমন উদ্যোগ নেওয়া গেলে চুরি, ছিনতাইসহ অনেক দুর্ঘটনা কমে যাবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলার সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ার বলেন, রাঙামাটির পরিবহন খাতকে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। আমাদের দেশে অনেক ভালো উদ্যোগ তদারকির অভাবে ভেস্তে যায়। পুলিশ যেন এ ভালো উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ‘নিরাপদ রাইড’ ও ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’র উদ্যোক্তা মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন শহর এবং চলাচলের অন্যতম বাহন অটোরিকশা। এ পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা কমে যাবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনেক সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। অনেক অপরাধের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, পাশাপাশি ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটক ও যাত্রীবাহী বাসের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল পার্কিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সারা বছর রাঙামাটিতে প্রবেশকারী পর্যটকবাহী বাসগুলোকে শহরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-মেইল বা মোবাইল বার্তার মাধ্যমে বাসচালকেরা পার্কিংয়ের তথ্য ও নির্দেশনা পাবেন। ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, চলতি বছর ‘নিরাপদ রাইড’ এবং ‘অনলাইন বাস টার্মিনাল’ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এটি সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোনো জাতীয় ব্যবস্থা নয়, জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপদ যাত্রা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করা, যাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা এবং চালকদের পরিচয়, আচরণ ও সেবার ক্ষেত্রে জবাবদিহির আওতায় আনা এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি যাত্রীদের সড়ক নিরাপত্তার সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করাও এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।