আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৯ বার
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভকে সামনে রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মাঠে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ।
মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ‘সেন্তিনেল’ ইউনিটের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এতে পুলিশ ও জেন্ডার্মেরির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। তাঁর অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কট্টর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলো সহিংসতা উসকে দিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে মিছিল করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত সোমবার রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশ, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের কয়েকটি এলাকা এবং অন্যান্য শহরে কারফিউ জারি ও বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মার্সেইয়ের কিছু এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে এ পর্যন্ত ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গত শনিবারের সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি মার্সেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১১৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ায় নারী এমপিকে গাড়িচাপা, এক পা বিচ্ছিন্ন
অস্ট্রেলিয়ায় নারী এমপিকে গাড়িচাপা, এক পা বিচ্ছিন্ন
পুলিশ ইউনিয়নের কর্মকর্তা আর্নড ব্লেস সহিংসতার ভয়াবহতা তুলে ধরে পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে কট্টর বামপন্থি ‘ব্ল্যাক ব্লক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা উসকানি দেন। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে প্রায় চার হাজার টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়তে হয়। একপর্যায়ে গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুলিশকে পিছু হটতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্সেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান। গত সোমবার শহরটি সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনিয়েজের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সরকারের পদক্ষেপকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে পুলিশের সদস্যসংখ্যা ও মোতায়েনের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শুধু শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হলে ভবিষ্যতেও লুটপাটের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকবে।
ফ্রান্সের এই অস্থিরতার মধ্যে অভিবাসন ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, প্যারিস শিগগিরই একটি ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ মন্তব্য ইউরোপে অভিবাসন নীতি নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই প্রতিফলন। ফ্রান্সে চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য দেশটির নিরাপত্তা, অভিবাসননীতি ও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ফরাসি সরকার শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপের ওপর।
Copyright © 2015-2026 banglanews24.com