ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২ বার


 তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীতে।

সেখানে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে এই প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের মজুতও দ্রুত কমছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি ও আগামী বছরের তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন।

সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯১ ডলার হতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। একইভাবে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৫ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

তবে এই পূর্বাভাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইআইএ তাদের পূর্বাভাসের হিসাব চূড়ান্ত করেছিল ৩ সেপ্টেম্বর। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং তেলবাহী জাহাজে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পুরো প্রভাব এই পূর্বাভাসে প্রতিফলিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে গিয়ে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত কমছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা


   আরও সংবাদ