ঢাকা, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তা

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৬ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৬ বার


ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে কঠোর নিরাপত্তা

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ১৫ আগস্ট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার (১৫ আগস্ট) দিনভর সেখানে নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, ডিবি ও সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা সদস্যরা।

 

এদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আরও তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাদের বিষয়ে পুলিশি কার্যক্রম চলছিল।

 

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, টাঙ্গাইল থেকে আসা যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস (৩৭) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। অর্ণবের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়।

 

অন্যদিকে, সাংবাদিক পরিচয়ে সেখানে আসা যুবলীগ কর্মী নিপু মিয়াসহ (৩০) আরও তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হেফাজতে থাকা বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানান, মব সৃষ্টি করতে আসা কয়েকজন যুবক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে সেখান থেকে পালিয়ে যান। একই দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সংলগ্ন সড়কে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে একদল যুবক মিছিল করেন। মিছিল থেকে ‘রশি লাগলে রশি নে, হাসিনাকে ফাঁসি দে’ স্লোগান দেওয়া হয়।

মিছিল শেষে জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঢাকা জেলার আহ্বায়ক জিহাদ নূর চৌধুরী বলেন, তারা জানতে পেরেছেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে, এমনকি ভুয়া সাংবাদিকের পরিচয়পত্র ঝুলিয়েও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে তাদের নেতাকর্মীরা কয়েকজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। খবর পাওয়ার পর মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ ও পরিস্থিতি তদারকি করতে তারা সেখানে ছুটে আসেন।

এর আগে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় সিঙ্গারা বিতরণ করতে আসা এক যুবককেও আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার ভোর ৫টা থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি র‍্যাব, এপিবিএন, ডিবি ও সাদা পোশাকে থাকা গোয়েন্দা সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতা মোকাবিলায় পুরো এলাকায় কঠোর নজরদারি চালানো হয়।

সকালে ঘটনাস্থলে জলকামান ও সাঁজোয়া যান (এপিসি) প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেগুলো সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের সড়কের তিনটি পয়েন্টে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আবারও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ওই সময় এক্সকাভেটর, ক্রেন ও বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সামনে-পেছনের তিনটি ভবনের অবশিষ্ট অংশ, সামনের উঁচু দেয়াল ও লোহার গেট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


   আরও সংবাদ