ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৫ বার
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম গ্রামে হঠাৎ করেই বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। অর্থাভাব ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক রোগী এবং তাদের স্বজনরা স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছেন।
এতে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাদের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রুমা, থানচি ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা হঠাৎ করেই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। দুর্গম এলাকা ও অর্থসংকটের কারণে অনেকেই প্রথমে নিজ এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হলে পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রুমা উপজেলার ফাইননপাড়ার বাসিন্দা পারিং ম্রো বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার সাত বছর বয়সী মেয়ের কয়েক দিন ধরে গলা, পেট ও মুখে ব্যথা ছিল। প্রথমে তাকে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
বান্দরবানের সমাজকর্মী রাজেশ দাশ বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।’
গত এক সপ্তাহে রুমা উপজেলার চেমাখাল, শৈরাতং, লেতংপাড়া ও পাইন্দুখাল, থানচি উপজেলার তিন্দু এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার খামতাংপাড়ায় বসবাসরত ম্রো, খুমি, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও খিয়াং সম্প্রদায়ের অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়ে যে হাসপাতালে আনার আগেই নিজ নিজ এলাকায় তাদের মৃত্যু হয়।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাসান বাংলানিউজকে জানান, গত ৩ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯ জন শিশু রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা বাড়িতে অথবা হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছে। দুর্গম এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রোগীদের হাসপাতালে আনা এবং শিশুদের টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বান্দরবানের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। এ সময়ে মারা গেছে চারজন।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অতনু চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালে ৩৬ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রদত্ত হামের টিকা গ্রামের অনেক শিশু গ্রহণ করেনি। পারিবারিক অজ্ঞতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্গম পার্বত্য এলাকার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের হামে আক্রান্ত রোগীদের বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া যেসব পাড়ায় শিশুরা এখনও হামের টিকা নেয়নি, সেসব এলাকায় পুনরায় জরিপ পরিচালনা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।