ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

মহানায়করা যেভাবে উঠে এলেন রূপালি পর্দায়

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬ ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৯ বার


মহানায়করা যেভাবে উঠে এলেন রূপালি পর্দায়

বিশ্বকাপ এলেই নতুন করে আলোচনায় আসেন ফুটবল তারকারা। মাঠের পারফরম্যান্স, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফির গল্প ছাপিয়ে ভক্তরা জানতে চান তাদের ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম আর সাফল্যের পেছনের গল্পও।

আর সেই আগ্রহ থেকেই গত দুই দশকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক সিনেমা, ডকুমেন্টারি ও ডকুসিরিজ।

 

কেউ বস্তির দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে উঠে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয়ী হয়েছেন, কেউ শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে হারিয়ে হয়েছেন সর্বকালের সেরা, আবার কেউ খ্যাতির শিখরে উঠেও বিতর্কে জড়িয়েছেন।

এসব গল্পই জায়গা পেয়েছে নির্মিত সেসব সিনেমা, ডকুমেন্টারি ও ডকুসিরিজে। জেনে নেওয়া যাক ফুটবল বিশ্বের আট মহাতারকাকে নিয়ে নির্মিত আলোচিত সিনেমা ও ডকুমেন্টারির গল্প।

 

‘পেলে: বার্থ অব আ লিজেন্ড’
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পেলের শৈশব ও বিশ্বজয়ের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় ‘পেলে: এক কিংবদন্তির জন্ম’। দারিদ্র্য, পারিবারিক সংগ্রাম এবং ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এটি অনেকটা ফুটবলের ‘অরিজিন স্টোরি’ হিসেবে নির্মিত হয়েছিল।

সিনেমাটি মূলত ১৯৫৮ বিশ্বকাপ জয় পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান গ্রেট পেলের জীবনের গল্প তুলে ধরে।

 

২০১৩ সালে ব্রাজিলে ‘পেলে: এক কিংবদন্তির জন্ম’র দৃশ্যধারণ শুরু হয়। এটি পরিচালনা করেন দুই ভাই জেফ জিম্বালিস্ট ও মাইকেল জিম্বালিস্ট। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে তরুণ পেলের চরিত্রে অভিনয় করেন কেভিন ডি পাউলা। ভিনসেন্ট ডি’অনোফ্রিও, রদ্রিগো সান্তোরো ও ডিয়েগো বোনেতাও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘পেলে: বার্থ অব আ লিজেন্ড’ নির্মাণে প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। তবে বক্স অফিসে সিনেমাটি সাড়া ফেলতে পারেনি। আয়ের অংক অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। বিশ্বব্যাপী এটি মাত্র ৭৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করতে সক্ষম হয়।

‘পেলে’
পেলেকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে। যার নামকরণ করা হয়েছে ফুটবলের এই মহাতারকার নামেই। পেলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো তুলে ধরা হয় এতে। এটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ২০২১ সালে।

পরিচালনায় ছিলেন ডেভিড ট্রাইহর্ন ও বেন নিকোলাস। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে কীভাবে পেলে ব্রাজিলের জাতীয় নায়ক হয়ে উঠেছিলেন, সেই গল্পই উঠে আসে এতে। মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে তথ্যচিত্রটি।

তবে নির্দিষ্ট নির্মাণ ব্যয় এবং সঠিক আয়-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। যদিও পিচ প্রোডাকশনস প্রযোজিত তথ্যচিত্রটি নেটফ্লিক্সে উল্লেখযোগ্য দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

‘দিয়েগো ম্যারাডোনা’
ফুটবলভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয় আর্জেন্টাইন গ্রেট দিয়েগো ম্যারাডোনার ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটিকে। অস্কারজয়ী নির্মাতা আসিফ কাপাডিয়া প্রায় ৫০০ ঘণ্টারও বেশি অপ্রকাশিত ফুটেজ ব্যবহার করে ‘ম্যারাডোনা’ নামে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন। এতে মূলত বিশ্বকাপজয়ী দিয়েগো ম্যারাডোনার নাপোলিতে কাটানো সময়কাল, খ্যাতি, মাদকাসক্তি, মাফিয়া-সংযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৯ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়। এর পর এটি সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেক দর্শক ও সমালোচক এটিকে ম্যারাডোনাকে নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কাজ বলে মনে করেন।

‘দিয়েগো ম্যারাডোনা’ প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরিতে আনুমানিক বাজেট ছিল প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন বা ৩৮ লাখ ডলার। অন্যদিকে আইএমডিবির তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এটি আয় করে প্রায় ২৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬৫ ডলার।

‘জিদান: আ টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি পোর্ট্রেট’
ফুটবল নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্রগুলোর একটি ‘জিদান: একবিংশ শতাব্দীর প্রতিকৃতি’। বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় এটি। এতে পুরো ম্যাচজুড়ে শুধু জিদানের ওপর ক্যামেরা ফোকাস করা হয়েছে।

ডগলাস গর্ডন ও ফিলিপ পারেনো পরিচালিত চলচ্চিত্রটি ২০০৬ সালে মুক্তি পায়। ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি শিল্পবোদ্ধাদের কাছেও এটি প্রশংসিত হয়। এর আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রকাশ না হলেও ধারণা করা হয়, প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল এবং এটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ ডলার আয় করেছিল।

‘রুনি’
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনির জীবন নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘রুনি’। এটি পরিচালনা করেন নির্মাতা ম্যাট স্মিথ। এভারটনের বিস্ময়বালক থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি হয়ে ওঠা, ব্যক্তিগত বিতর্ক এবং জাতীয় দলের চাপ—সবকিছুই উঠে এসেছে এতে। ২০২২ সালে এটি মুক্তি পায়। মুক্তির পর ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকদের কাছেও এটি প্রশংসিত হয়।

তথ্যচিত্র ‘রুনি’র নির্দিষ্ট নির্মাণ বাজেট বা প্রচলিত বক্স অফিস আয়ের তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এটি লরটন এন্টারটেইনমেন্ট দ্বারা প্রযোজিত হয়েছিল এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জন্য একটি মৌলিক ফিচার ফিল্ম হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়, যা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দিয়ে তাদের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছিল।

‘রুনি: দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য গোলস’
ওয়েন রুনিকে নিয়ে আরও কিছু প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৫ সালের ‘রুনি: দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য গোলস’। প্রামাণ্যচিত্রটি ওয়েন রুনিকে ফুটবল মাঠের বাইরে একজন সাধারণ মানুষ, স্বামী এবং পিতা হিসেবে উন্মোচন করেছে।

এতে রুনির নিজের পাশাপাশি ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যারি লিনেকার, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের মতো বিখ্যাত তারকাদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। ক্যামেরায় তার স্ত্রী কোলিন রুনি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একান্ত মুহূর্তগুলো দেখানো হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন টিম ম্যাকেঞ্জি-স্মিথ।

‘রুনি: দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য গোলস’ মূলত একটি প্রামাণ্যচিত্র হওয়ায় এর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্স অফিস আয় বা থিয়েটার রিলিজের বাণিজ্যিক বাজেট নেই।

‘বেকহ্যাম’
নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়াভিত্তিক ডকুসিরিজগুলোর একটি ‘বেকহ্যাম’। ইংলিশ তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই সিরিজটি। এটি পরিচালনা করেন ফিশার স্টিভেন্স।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে উত্থান, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের লাল কার্ড বিতর্ক, মিডিয়ার চাপ এবং ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে এতে। ২০২৩ সালে মুক্তির পর এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেটফ্লিক্সের শীর্ষ ভিউয়ের কনটেন্টের তালিকায় জায়গা করে নেয়।

সিরিজটি নির্মাণ করতে আনুমানিক ২০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। নেটফ্লিক্সের নির্দিষ্ট আয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হয় যে বেকহ্যাম দম্পতি সম্মিলিতভাবে ৩৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় করেছেন। তথ্যচিত্রটি ব্যাপক সাফল্য লাভ করে এবং মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী ১২.৪ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করে।

‘মেসি’
চলতি সময়ের বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে পরিচিত ডকুড্রামাগুলোর একটি ‘মেসি’। স্প্যানিশ নির্মাতা আলেক্স দে লা ইগলেসিয়া পরিচালিত ডকুড্রামািট ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। একই বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।

এতে অভিনয়ের বদলে মেসির জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরতে সাক্ষাৎকার, পুনর্নির্মাণ ও আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে।

রোজারিওর ছোট্ট ছেলে থেকে বার্সেলোনার কিংবদন্তি হয়ে ওঠা, গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ওঠার গল্প এতে দেখানো হয়েছে। ডকুড্রামাটিতে অংশ নেন জোহান ক্রুইফ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে, সিজার লুইস মেনোত্তি ও হোর্হে ভালদানোর মতো ফুটবল ব্যক্তিত্ব।

মেসিকে নিয়ে নির্মিত ডকুড্রামাটি আনুমানিক ৩ মিলিয়ন ইউরো বাজেটে নির্মিত হয়েছিল। এটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে প্রায় ৩৩ হাজার ৬০৭ ডলার আয় করে।

‘মেসির বিশ্বকাপ: দ্য রাইজ অব আ লিজেন্ড’
২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত চার পর্বের তথ্যচিত্র সিরিজ ‘মেসি’স ওয়ার্ল্ডকাপ: দ্য রাইজ অব আ লিজেন্ড’। এটি ২০২৪ সালে অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তি পায়।

এখানে দেখানো হয়েছে পাঁচটি বিশ্বকাপে মেসির দীর্ঘ পথচলা, ব্যর্থতার হতাশা, সমালোচনা এবং অবশেষে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ। মেসির নিজের বক্তব্যও এতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। মুক্তির পর এটি ক্রীড়াভিত্তিক ডকুসিরিজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

‘মেসি’স ওয়ার্ল্ডকাপ: দ্য রাইজ অব আ লিজেন্ড’র সঠিক নির্মাণ ব্যয় এবং সরাসরি আয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা তারকার ব্র্যান্ড ভ্যালু ও একচেটিয়া ফুটেজের কারণে এই সিরিজের পেছনে অ্যাপল টিভিকে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে এবং পরোক্ষভাবে এটি প্ল্যাটফর্মটির জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি প্রজেক্ট ছিল।

‘রোনালদো’
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেন অ্যান্থনি ওয়নকে। এটি মুক্তি পায় ২০১৫ সালে।

বিশ্বের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় পেশাদার ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ মাস ধরে চিত্রায়িত হয় এটি। রোনালদো, তার মা মারিয়া দোলোরেস এবং ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এর গল্প।

ফুটবল মাঠের বাইরের রোনালদোকে জানার সুযোগ করে দেওয়ায় ভক্তদের কাছে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবনীভিত্তিক তথ্যচিত্রটির নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অফিশিয়াল বাজেট প্রকাশ না করা হলেও সিনেমাটির সরাসরি থিয়েটার বক্স অফিস এবং ডিভিডি বিক্রি থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি দৃশ্যমান আয় হয়েছিল।

‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া একটি জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’। ২০২২ সালে মুক্তি পায় ডেভিড চার্লস রদ্রিগেজ পরিচালিত সিরিজটি। এই তথ্যচিত্রটি নেইমারের একজন ফুটবলার থেকে বৈশ্বিক আইকন হয়ে ওঠার পেছনের অজানা গল্পগুলো জানতে সাহায্য করবে।

তিন পর্বের এই সিরিজে সান্তোসে তার উত্থান, বার্সেলোনা ও পিএসজিতে কাটানো বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিতর্ক এবং তার মার্কেটিং সাম্রাজ্যের পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

সিরিজটিতে নেইমারের পাশাপাশি মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ডেভিড বেকহ্যামের সাক্ষাৎকার রয়েছে। খ্যাতি, সমালোচনা, পারিবারিক জীবন এবং মাঠের বাইরের নেইমারকে তুলে ধরার জন্য এটি আলোচিত হয়।

‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট বাজেট কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এর সরাসরি আয়ের অফিশিয়াল তথ্য নেটফ্লিক্স প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হয়, এর পেছনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়ে থাকতে পারে এবং পরোক্ষভাবে এটি নেটফ্লিক্সের জন্য বিপুল লভ্যাংশ বয়ে এনেছে।

বাংলাদেশেও ফুটবল বা ফুটবলারদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে কিছু চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র। এর মধ্যে রায়হান রাফী নির্মিত ‘দামাল’ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ইতিহাস তুলে ধরেছে, আর তাহরিমা খান নির্মিত ‘মুন্নি’ দেখিয়েছে নারী ফুটবলের অনুপ্রেরণাদায়ী এক সংগ্রামের গল্প। তবে মোনেম মুন্না বা কাজী সালাউদ্দিনের মতো দেশের কিংবদন্তি কোনো ফুটবলারের  জীবনী নিয়ে এখনো আলোচিত কোনো পূর্ণাঙ্গ বায়োপিক নির্মিত হয়নি।


   আরও সংবাদ