ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হবে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৬ বার


‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ হবে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি

দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বের করে এনে অংশগ্রহণমূলক ও বহুমাত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায় সরকার। শিল্প ও সেবা খাতের পাশাপাশি সৃজনশীল শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং গ্রামীণ কারুশিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় তরুণ উদ্যোক্তা নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা ‘ওভার-রেগুলেশন’র মধ্যে আটকে রয়েছে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ অর্থনীতির স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। 

 

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরেই তারা অর্থনীতিতে ডি-রেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন।

 

তিনি বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি একটি পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক বা ‘প্যাট্রোনাইজড’ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছিল। ফলে কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এসব নিয়ন্ত্রণ সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য হলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো এর বাইরে থেকে গেছে।

 

আমীর খসরু বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পায় এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ কারিগর, কামার, কুমার, তাঁতি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাজ করলেও তাদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও বাস্তবে এসব মানুষ দীর্ঘদিন মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, থিয়েটার শিল্পী, সংগীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী কিংবা অন্যান্য সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য দেশে কার্যকর অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ এসব খাতও জাতীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোতে সৃজনশীল শিল্প থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আয় হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই খাতগুলোর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। লোকসংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ কারুশিল্পীদের জন্য ইনপুট সহায়তা, সহজ ঋণ, ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং এবং বাজার সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের পণ্য সরাসরি আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করতে পারেন।

তিনি বলেন, অনেক দেশে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশেও অনুরূপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।

রাজধানীর আশপাশে একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ প্রকল্পে থিয়েটার, শিল্পকলা, ডিজাইন, সংগীত, স্ট্যান্ড-আপ কমেডি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে মানুষ সময় ও অর্থ ব্যয় করবে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সম্প্রসারিত করবে।

ক্রীড়াকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে এখনো স্পোর্টস ইকোনমিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অথচ ক্রীড়াখাতও কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জাতীয় আয়ের নতুন উৎস হতে পারে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ শুধু শিল্প ও প্রচলিত সেবাখাতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করেই একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভির গনি এবং বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। বৈঠকে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণ ও দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।


   আরও সংবাদ