ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬ ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৪ বার
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৫৪ বছর আগে সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া এক জেলে হঠাৎ ফিরে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত ভেবে যাকে পরিবার বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছিল, সেই ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) বৃদ্ধ বয়সে ফিরে এসেছেন নিজের ভিটেমাটিতে, পেয়েছেন স্বজনদের।
শুক্রবার (৮ মে) এ ঘটনায় ফিরে আসা বৃদ্ধের ছেলে মো. আকরাম (৫৩) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই।
পরে স্বজনরা স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে যান।
পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।
সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে হাতিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ছৈয়দ আহাম্মদ। বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এ ঘটনায় পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বলে মন্তব্য করেছেন। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ ৫৪ বছর পর জীবিত ফিরে আসবেন, এটা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তবে বাড়িতে ফেরার পর তাকে ঘিরে পারিবারিক টানাপড়েনও সৃষ্টি হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন তার বাবা ফেরত আসার পর তার চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তার কাছে থাকার জন্য বলেছেন। তবে তার চাচাতো ভাইয়েরা তার কাছে থাকতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি তিনি পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।