ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:২২ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অন্তত পাঁচটি গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েল অচল হয়ে পড়েছে।
এতে কয়েক হাজার পরিবার চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়ার সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী ও পুরাতন বাজার এলাকায় গত পাঁচ বছর ধরে বছরের সাত থেকে আট মাস টিউবওয়েলগুলোতে পানি ওঠে না।
ফলে এসব এলাকার মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর পাড়ে স্থাপিত একটি মাত্র টিউবওয়েলের ওপর।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে ওই একমাত্র টিউবওয়েলের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা।
এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
সিদ্দিকনগরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম ও মোশারফ হোসেন জানান, খাবার পানি থেকে শুরু করে গোসলের পানি, সবকিছুই এখন নদীর পাশের একটি টিউবওয়েল থেকে আনতে হচ্ছে।
দিন দিন কষ্ট বাড়ছে, কিন্তু তাদের নিজস্ব টিউবওয়েলে পানি নেই। পুরুষরা কোনোভাবে পানি আনতে পারলেও নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তেঁতুলিয়া উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিঠুন কুমার রায় বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাঁচ বছর আগে যেখানে পানির স্তর ছিল ৭০ থেকে ৮০ ফুট, বর্তমানে তা নেমে গেছে ১১০ থেকে ১২০ ফুটে। ফলে সাধারণ টিউবওয়েল দিয়ে পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট নিরসনে সাবমার্সিবল পাম্প প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।
তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পাম্প বসানোর একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংকট কিছুটা লাঘব হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।