ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১০ বার
রাজধানীর মিরপুরের বাউনিয়াবাঁধ এলাকাকে ঘিরে অটোরিকশা ছিনতাই ও খুনের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানা গেছে, এক থেকে দেড় লাখ টাকার অটোরিকশা লুটের জন্য পরিকল্পিতভাবে চালকদের ফাঁদে ফেলে হত্যা করত চক্রটি।
নারী-পুরুষ মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই চক্রের হাতে গত দুই বছরের কম সময়ে অন্তত সাতজন চালক প্রাণ হারিয়েছেন। বাউনিয়াবাঁধ এলাকার অন্তত পাঁচটি গ্যারেজ মালিকের ছত্রছায়ায় এই চক্র পরিচালিত হতো।
পুরো বিষয়টি উন্মোচিত হয় নৌ-পুলিশের তদন্তে। পরে ধরা পড়া সদস্যদের জবানবন্দিতে অটোরিকশা ছিনতাই, হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের চেষ্টার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে।
গত রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের অনুসন্ধান এবং স্থানীয় পর্যায়ে চোরাই রিকশা সিন্ডিকেটের এক সাবেক প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গে কথা বলেও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে বাউনিয়াবাঁধের ই-ব্লকসহ আশপাশের এলাকাকে এই চোরাই নেটওয়ার্কের মূল কার্যকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত এক ব্যক্তির নামও জানা গেছে, যিনি গত ১০ বছর ধরে চোরাই অটোরিকশা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
ঘটনাপ্রবাহ
গত ২৮ ডিসেম্বর সাভারের ধামরাই থেকে জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির; কিন্তু বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে পরিবার থানায় সাধাররণ ডায়েরি (জিডি) করে। পাঁচ দিন পর সাভারের নামা বাজার বাশপট্টি এলাকায় বংশী নদীতে ভেসে ওঠে তার লাশ। সেটিই হয়ে ওঠে সূত্র; ঢাকা রেঞ্জ নৌ-পুলিশের তদন্তে একে একে উন্মোচিত হতে থাকে অটোরিকশা ছিনতাইকে ঘিরে গড়ে ওঠা নির্মম হত্যাচক্রের লোমহর্ষক ঘটনা।

নারগিছ, নাঈম, সোবহান, পলাতক আজিজ ও বাবুল
কেবল একটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় হুমায়ুন কবিরকে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে ছয় সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; এরমধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে একে একে বেরিয়ে আসে একাধিক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। একই পরিবারের তিন সদস্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই চক্রটি মাঠপর্যায়ে ভাগ হয়ে কাজ করত। গ্রেপ্তাররা হলেন- নারগিছ, নাঈম, বাবুল, কবির ও সোবাহান। আজিজ নামে তাদের অপর এক সদস্য পলাতক।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার দিন প্রথমে চালক হুমায়ুন কবিরকে টার্গেট করে চক্রটি। এরপর তার কাছে গিয়ে চক্রের নারী সদস্য নারগিছ কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘মেয়ে হারিয়ে গেছে’ বলে গল্প শোনান। তার সঙ্গে থাকা আজিজ নিজেকে স্বামী পরিচয়ে উপস্থাপন করে। তারা হুমায়ুনকে দ্রুত মেয়েকে খুঁজতে সহায়তা করার কথা বলেন স্বামী-স্ত্রীর অভিনয়, আবেগঘন পরিস্থিতি এবং বেশি ভাড়ার প্রলোভনে হুমায়ুনও তাদের নিজের রিকশায় তুলে নেন। কিছুদূর যাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও কয়েকজন সদস্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিকশাটি থামায় এবং নিজেদের আত্মীয় পরিচয়ে যোগ দেয়। এ পর্যায়ে বাবুল, কবির ও নাঈম দলে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
একপর্যায়ে কৌশলে চালককে পানি বা জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। অচেতন হয়ে পড়লে নাঈম রিকশাটি নিয়ে চলে যায়। বাকিরা হুমায়ুনকে হত্যা করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার দেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় লাশ উদ্ধারের দিনই মামলা হয়।
মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা অঞ্চলের নৌ-পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক হুমায়ুন জানান, একই কায়দায় সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের সূত্র মিলিয়ে এই চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করা হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে গত দুই বছরে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
নিহত হুমায়ুন কবিরের ভাই ও মামলার বাদী মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে কথা হলে বাংলানিউজকে তিনি জানান, কিস্তিতে কেনা অটোরিকশা হারানো এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। হুমায়ুনের স্ত্রী গার্মেন্টসে কাজ করে কিস্তি পরিশোধের চেষ্টা করছেন, কিন্তু সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার ও পলাতক সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
গ্রেপ্তার নাঈম সরদারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, হুমায়ুন কবিরসহ চক্রটির শিকার হওয়া অন্য চালকদের ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে। তদন্ত সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় স্বপন ওরফে কবির ছিল সবচেয়ে সক্রিয় ও কৌশলী সদস্য। চালক টার্গেট নির্ধারণ, ঘটনাস্থল নির্বাচন থেকে শুরু করে খাবারে চেতনানাশক মেশানো, সবকিছুই তার তত্ত্বাবধানে হতো।
চক্রটির অপারেশন শুরু হতো নারগিছ ও পলাতক আজিজকে দিয়ে, যারা আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি করে চালকদের আস্থায় নিত। দ্বিতীয় ধাপে নাঈম ও বাবুল যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে এবং কবিরের সহকারী হিসেবে কাজ করত। চালককে অচেতন করার পর তাকে নির্জনে ফেলে দেওয়া পর্যন্ত বাবুল সক্রিয়ভাবে কবিরকে সহায়তা করত। পরে নাঈম ছিনতাই করা অটোরিকশা নিয়ে চলে যেত, যেখানে বাবুল যাত্রী সেজে সঙ্গে থাকত।
রিকশা গ্যারেজে নেওয়া, বিক্রি সম্পন্ন করা এবং অর্থ কবিরের কাছে পৌঁছে দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াতেও বাবুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, পুরো ঘটনাটি দূর থেকে নজরদারি করতেন সোবাহান, যিনি নারগিছের স্বামী এবং পেশায় প্রাইভেটকার চালক। কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলে চক্রের সদস্যরা তাকে ফোন করত; পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সদস্যদের সরিয়ে নিতেন। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এই চক্রটি গড়ে উঠেছে। বাবুল হচ্ছেন নারগিছের ছোট বোনের স্বামী। সোবাহান এতে যুক্ত হয়েছেন নিজের স্ত্রী নারগিছের মাধ্যমেই।
একই চক্রের শিকার হন আরেক অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলাম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জিরাবোর ভাড়া বাসা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। তিন দিন পর তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরের একটি লেক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তুরাগ থানায় হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। কবির হত্যা মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যার দায়ও স্বীকার করেছেন তারা। নিহত সাইফুলের ভাগ্নের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মামার এমন পরিণতিতে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে।
এছাড়া গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর গাজীপুরের পূবাইলের খোরাইদ এলাকায় অটোরিকশা চালক আব্দুর রহিম ভুঁইয়া এবং চলতি বছরের মার্চে গাছা এলাকার শাহাবুল ইসলাম রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন এবং পরে একই পরিণতির শিকার হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নারগিছ-সোবাহান চক্রের হাতে আশরাফুল ইসলামসহ আরও দুজন অটোরিকশা চালকও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানায় দায়ের করা তিনটি মামলা, ডিএমপি তুরাগ থানার দুটি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী থানার একটি মামলা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব চক্রের আশ্রয়দাতা কারা
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায় পাঁচটি গ্যারেজ মালিক চক্রটির মূল আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে রিকশা চুরি, যন্ত্রাংশ আলাদা করে জোড়া লাগানো এবং বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া।
প্রায় এক দশক ধরে চোরাই অটোরিকশা ব্যবসায় জড়িত পল্লবী থানা ‘বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত’ আলম চাঁন। বাউনিয়াবাজার মসজিদ গলিতে তার গ্যারেজে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি চোরাই রিকশা আনা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, মাত্র ২০–৩০ মিনিটের মধ্যেই আলম চাঁনের গ্যারেজে এসব রিকশা খুলে পুনরায় সংযোজন করে ‘নতুন’ আকারে বাজারজাত করা হয়।
একই এলাকায় তার আরও দুটি গ্যারেজ রয়েছে, যার একটিতে বৈধ এবং অন্যটিতে অবৈধ রিকশা রাখা হয় বলে জানা গেছে। এসব গ্যারেজ থেকে সাভার, আশুলিয়া ও কেরানীগঞ্জ থেকে আনা রিকশা ২৫–৩৫ হাজার টাকায় কিনে ৭০–৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অতীতে একাধিকবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও আলম চাঁনের কার্যক্রম থেমে যায়নি।
অন্যদিকে, আলম চাঁনের গ্যারেজের পাশেই ইমরান নামে আরেক ব্যক্তি বড় আকারের চোরাই রিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘চোরা স্বপনের মেয়ের জামাই’ নামে পরিচিত। তার গ্যারেজে দুইজন মেকানিক নিয়মিত কাজ করেন। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, একটি সক্রিয় চক্রের মাধ্যমে গাবতলী, আমিনবাজার, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে রিকশা চুরি করে এখানে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্যদের দাবি, পারিবারিক ও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ইমরানের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলছে। আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও অধিক লাভের আশায় তিনি পরবর্তীতে চোরাই অটোরিকশা বাণিজ্যে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রিকশা চালক কবিরকে হত্যা করা ছিনতাই চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আলম চাঁন ও ইমরানের নিয়মিত যোগাযোগের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উদ্ধার করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সেখানে দাদনের অর্থ লেনদেন, রিকশা সরবরাহের সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় রিকশার ধরন নিয়ে আলাপের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তাদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলম চাঁন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এডি কিছু জানি না। আর আমি যদি এইসব কইরাই থাকি তাইলে তো পুলিশের কাছে প্রমাণ আছেই। হ্যারা আমরে ধইরা লয়া যাক, শাস্তি দেক। আমার কোনো আপত্তি নাই।
একই চক্রের সঙ্গে চোরাই অটোরিকশা বাণিজ্যে যুক্ত রয়েছেন মোহর আলী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগে একটি সমিতির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও লোকসানের পর ধীরে ধীরে এই চক্রে জড়িয়ে পড়েন। নিজস্ব বড় নেটওয়ার্ক না থাকলেও বিভিন্ন স্থান থেকে রিকশা সংগ্রহ করে তা অন্য গ্যারেজে সরবরাহ করতেন।
অন্যদিকে বাউনিয়ার কলার আড়ত এলাকায় ইদ্রিসের গ্যারেজে মাসে প্রায় ৭০ থেকে ১০০টি চোরাই রিকশা পুনঃপ্রস্তুত করা হয় বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যারেজটি দুই ভাগে বিভক্ত। সামনের অংশে বৈধ রিকশা রাখা হলেও ভেতরের অংশে পার্টিশনের আড়ালে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল চোরাই রিকশা। স্থানীয়দের দাবি, ইদ্রিসের নিয়ন্ত্রণাধীন এই চক্রে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য কাজ করেন।
এছাড়া একই এলাকায় মা-ছেলের একটি চক্র চোরাই রিকশা ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাউনিয়াবাঁধের ই-ব্লকে অবস্থিত মমতাজের গ্যারেজে রিকশার চেহারা পরিবর্তন করে তা বিক্রি করা হয়। এ কাজে তার স্বামী ও ছেলেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহর আলী ও ইমরানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে মমতাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোয় গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনা এবং নেপথ্যে থাকা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে যাচাই চলছে। এছাড়া, চক্রের পলাতক সদস্যের অবস্থান শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে।
মামলাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ চিত্র আদালতের সামনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তারা।
ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা গেছে গ্রেপ্তাররা প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলে সব ঘটনা আলাদাভাবে মনে রাখা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে নাঈমসহ অন্যান্য আসামিরা একে একে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে, যার সত্যতা তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নৌ পুলিশের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি ঘটনার সূত্র ধরে যে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে, তা অত্যন্ত বিস্ময়কর। চক্রটি সন্ধ্যার আগে টার্গেট নির্ধারণ করে এবং গভীর রাতে অপরাধ সংঘটন করত। নিরাপদে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা সাধারণত অন্ধকার ও নির্জন এলাকাকে বেছে নিত। এ কারণে সন্ধ্যার পর চালকদের ভাড়া বা যাত্রী নির্বাচন বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।