ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশির প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেইটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ গ্রহণের সময় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, আজ আমরা শাহ আলমের মরদেহ গ্রহণ করলাম। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং পরিবারের জন্য শক্তি প্রার্থনা করি।
সরকার শুরু থেকেই যুদ্ধপ্রবণ এলাকায় থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।
দেশে ফিরতে আগ্রহীদের ফিরিয়ে আনতেও নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ।
শাহ আলম ভূঁইয়া ছিলেন বৈধ (ডকুমেন্টেড) কর্মী। এ কারণে তার পরিবারকে সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ইনস্যুরেন্স না থাকায় ১০ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে এই সহায়তা হস্তান্তর করা হবে।
এছাড়া তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে মরদেহ পরিবহন ও দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং ইরান সংকটজনিত বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০০ ডলার সমমূল্যের অর্থ ইতোমধ্যে পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিহত সাতজনের মধ্যে এটি দেশে আনা পঞ্চম মরদেহ। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু মরদেহ দেশে আনা নয়, বরং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, প্রয়োজন হলে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসন নিয়েও কাজ চলছে।
মরদেহ গ্রহণের সময় শাহ আলমের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। শোকাহত পরিবার এখন সরকারের সহায়তা ও সহমর্মিতার মধ্যেই কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজছে।