ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৪ বার
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর বিরোধিতা করে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি বলেন, সংসদে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময় ব্যয় হলেও এমন মৌলিক বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া দুঃখজনক।
২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এই কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই কমিশন বিরোধী দল দমনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং একটি পক্ষকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়া একটি “পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ”, যা জাতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে।
কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, ছয় সদস্যের সিলেকশন কমিটিতে অধিকাংশই সরকারপক্ষের হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।
এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, যেখানে সরকার বা বাহিনী জড়িত থাকতে পারে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, বিলটি উত্থাপনের পর সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।