স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় থাকায় শেষ ম্যাচ হয়ে উঠলো 'অঘোষিত ফাইনাল' ম্যাচে। রোমাঞ্চে ঠাসা এই ম্যাচ ছড়িয়েছে ফাইনালের উত্তাপ। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দেওয়া ২৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতেই দারুণ ছন্দে দেখা গেল বাংলাদেশের পেসারদের।
নতুন বলে আঘাত হানলেন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন। তার বাউন্সার সামলাতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান সাহিবজাদা ফারহান। উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ নেন লিটন দাস।
৫ বলে ৫ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয় এই ওপেনারকে।
দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে দ্রুত আরেকটি উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। আগের বলেই ছক্কা হাঁকানো মাজ সাদাকাত এবারও লিটনকে ক্যাচ উপহার দেন। ৫ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর ক্রিজে এসে শুরুতেই চার মেরে ভালো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে স্টাম্প ভেঙে যায়। ৪ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন রিজওয়ান।
শুরুতেই তিন ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
অভিষিক্ত গাজি ঘোরি ও আব্দুস সামাদ দলের বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন। তবে ফিফটি গড়া এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। তার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিষিক্ত গাজি। ভেঙে যায় ৬৭ বলে গড়া ৫০ রানের জুটি। ৩৯ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৯ রান করেন ঘোরি।
গাজির সাথে জুটি গড়া আরেক ব্যাটসম্যান সামাদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনিও। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৫ বলে ৩৪ রান।
ইনিংসের মাঝপথে সাদ মাসুদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সালমান। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৭৯ রান, যেখানে ৪৪ বলে ৩৮ রান করে আউট হন সাদ। পরে ফাহিম আশরাফের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ে পাকিস্তানের রান এগিয়ে নেন তিনি। ফাহিমকে ৯ রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। তবে এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন সালমান। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে নাহিদ রানার বলে ছক্কা মেরে ৮৯ বলে নিজের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
তবে ইনিংসের ৪৮তম ওভারে এসে আফ্রিদি-সালমান জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। নিজের শেষ ওভারে করা ডেলিভারিতে উঁচু শট খেলেন সালমান। বলটি সহজ ক্যাচে পরিণত করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৬ রান করে থামেন এই পাকিস্তানি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। জয়ের জন্য তখন পাকিস্তানের দরকার ছিল শেষ দুই ওভারে ২৮ রান। ৪৯তম ওভার করতে এসে শুরুতেই চাপে পড়েন মোস্তাফিজ রহমান। তার করা ওভারে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান আফ্রিদি।
ওভারের পঞ্চম বলে আফ্রিদির জোরালো শটে আঘাত লেগে পিচে শুয়ে পড়েন তিনি। চোটের মাঝেও ওভার শেষ করেন এবং শেষ বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে মিরাজের হাতে ধরা পড়েন হারিস রউফ।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৪ রান। রিশাদের শেষ ওভার নাটকীয়তার জন্ম দেয়। দারুণ ছন্দে থাকা আফ্রিদি
শেষ বলে ছক্কার চেষ্টায় বেরিয়ে এসে স্টাম্পড হন। রোমাঞ্চকর দারুণ এক সিরিজ জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এর আগে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুর দিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করছেন তানজিদ। আগের ম্যাচে দ্রুত আউট হলেও এবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলছেন তিনি। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া সাইফ তুলনামূলক সতর্ক হয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি দলকে বড় ইনিংসের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
অবশ্য সাইফের বিপক্ষে পাকিস্তান এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার সেটি নাকচ করে দেন। পরে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি রিভিউ নিলেও তাতে লাভ হয়নি। ফলে প্রথম রিভিউ হারাতে হয় পাকিস্তানকে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন তানজিদ, অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতিতে ইনিংস সাজাচ্ছিলেন সাইফ। দুজনের সমন্বয়ে ১০৬ বলে আসে উদ্বোধনী জুটির শতরান, যা বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
তবে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না সাইফ। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির নতুন স্পেলের প্রথম বলেই বিপদে পড়েন তিনি। স্টাম্প ছেড়ে শট খেলতে চাইলেও ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। ফলে বল সোজা আঘাত হানে স্টাম্পে এবং বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন সাইফ। তার বিদায়ে ভাঙে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান তানজিদের সঙ্গে নতুন সঙ্গী ছিলেন নাজমুল শান্ত। তানজিদের সঙ্গে বুঝেশুনে খেলেছেন তিনিও। দুজন মিলে রান নিয়ে গেছেন ১৫০ এর ঘরে। তবে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শান্ত। তাকে ফিরতে হয় ৩৪ বলে ২৭ রানে।
শান্তর পর তানজিদ-লিটন জুটি বেঁধেছিলেন। তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন লিটন। এরইমধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম শতরান স্পর্শ করেন তানজিদ। অবশ্য সেঞ্চুরির আগেই নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। আগে তার সেরা ছিল ৮৪ রান, আর এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে প্রথম শতকের দেখা পেলেন এই বাঁ হাতি ওপেনিং ব্যাটার। ৯৮ বলে তানজিদ পান কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির দেখা।
সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করার পর তিনি আউট হন। আবরার আহমেদের শর্ট বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে কাভারে ক্যাচ দেন তিনি। যেখানে শাহিন শাহ আফ্রিদি বল তালুবন্দী করেন। তানজিদ খেলেন ১০৭ বলে ১০৭ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, যেখানে ছিল সাতটি ছক্কা ও ছয়টি চার।
তানজিদের বিদায়ের পর শেষদিকে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেননি লিটন ও হৃদয়। ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে তারা দলের রান এগিয়ে নিয়েছেন। তারা ৪৭ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রানের জুটি।
শেষদিকে লিটন মারমুখী ব্যাট চালানোর চেষ্টা করেন। হারিসের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই উইকেটকিপার। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৪১ রান।
তার বিদায়ের পর গোল্ডেন ডাকে বিদায় হন রিশাদ হোসেন। তবে আফিফকে নিয়ে রানের গতি সচল রাখেন হৃদয়। তিনি দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ বলে ৪৭ রান করেন। তার সাথে ৫ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন আফিফ।