স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩১ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৪ বার
বল হাতে আসল কাজটা নাহিদ রানা সেরেই রেখেছিলেন। এই ফাস্ট বোলারের গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে টেনেটুনে ১০০ পার করেছে পাকিস্তান। নাহিদ নিজে তুলে নিয়েছেন রেকর্ড ফাইফার। এরপর ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকিয়ে দলকে সহজ জয় এনে দেন তানজিদ হাসান তামিম।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে আজ ৮ উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ৷ এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
মিরপুরের উইকেটে পর্যাপ্ত ঘাস দেখে খুশিই হয়েছিলেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। মিরপুর তার চিরাচরিত চরিত্র থেকে বের হলেও পাকিস্তানের ইনিংস পূর্বের মাঠকেই মনে করিয়ে দিয়েছে।
এই ম্যাচের উইকেট দেখে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ।
সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন টাইগার বোলাররা। চারজন অভিষিক্তকে নিয়ে নামা পাকিস্তান মাত্র ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায়।
ম্যাচের শুরুতে উইকেট না পেলেও রান আটকে রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পর প্রথম পাঁচ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও খুব বেশি রান করতে দেয়নি স্বাগতিক বোলাররা।
শুরুর দিকে নতুন বল হাতে দায়িত্ব পান দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান উইকেট না হারালেও সুবিধা করতে পারেনি।
পরে আক্রমণে এসে দ্রুত ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন নাহিদ রানা। দশম ওভারেই তিনি প্রথম আঘাত হানেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল উঁচুতে তুলে দেন ফারহান।
সহজ ক্যাচ নেন আফিফ হোসেন। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করেন ফারহান।
এরপর নিজের পরের ওভারেই আরেকটি উইকেট তুলে নেন নাহিদ। বড় শটের চেষ্টা করেন শামিল হোসেন। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন লিটন দাস। শামিল করেন ৭ বলে ৪ রান।
নাহিদের ঝড় থামেনি সেখানেই। টানা তৃতীয় ওভারে তিনি ফেরান ওপেনার মাজ সাদকাতকে। অপ্রস্তুত খেলা শট থেকে ক্যাচ তুলে নেন সাইফ হাসান। ২৮ বলে ১৮ রান করেন সাদকাত।
নাহিদের গতিময় বোলিংয়ে এই সময়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। এরমাঝেই দৃষ্টিনন্দন শটে বাউন্ডারি হাঁকান মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে পরের বলেই তাকে প্যাভিলিয়নে পাঠান নাহিদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বল তালুবন্দী করে নেন লিটন।
পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে ম্যাচে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন নাহিদ। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান। ৮ বলে সালমান করেন ৫ রান।
নাহিদের পর টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও পান উইকেটের দেখা। আব্দুল সামাদকে আউট করে প্রথম উইকেটের দেখা পান অধিনায়ক।
পাকিস্তানের শেষ ভরসা হুসাইন তালাতকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। প্রথমে আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাতেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ১৩ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন তালাত। শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেরত পাঠান মিরাজ। চার বলে ৪ রান পেয়েছিলেন পাক বোলার।
রানের খাতা খোলার আগে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে নাজমুল শান্তকে ক্যাচ উপহার দেন ওয়াসিম।
ফাহিম আশরাফ ও আবরার আহমেদ জুটি পাকিস্তানকে কোনোমতে একশ পার করান। ফাহিম আশা জাগিয়েও হতাশ করেন পাকিস্তানকে। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে তাসকিনকে উইকেট দিলে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। ফাহিম ৪৭ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। পাকিস্তান থামে ১১৪ রানে।
লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত শুরু পেলেও তৃতীয় ওভারে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আফ্রিদির করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল পয়েন্টে ঠেলে দেন সাইফ। সেখানে ক্যাচ নেন শামিল। ১০ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
বাংলাদেশের ম্যাচে 'খারাপ সময়' এটুকুই। এরপর শান্ত ও তামিম- এই দুজনের জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। আগ্রাসী ব্যাটিং করেন তানজিদ, শান্ত খেলেন বুঝেশুনে। তাদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি মাত্র ৩৮ বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে।
তামিম পান ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতকের দেখা। মাত্র ৩২ বলেই তিনি পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান। ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তবে শান্ত ৩৩ বলে ২৭ রান করে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। লিটনকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন তামিম। মাত্র ১৫.১ ওভারেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।