ঢাকা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

আফগানিস্তানে বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ২০ বার


আফগানিস্তানে বিমান হামলা

আত্মঘাতী হামলার ধারাবাহিকতার জেরে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বহু মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনার পর দেশটির সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এসব হামলার বিষয়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আফগান সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সীমান্তঘেঁষা দুটি প্রদেশে হামলা হয়েছে।

পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

 

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাইকৃত অভিযান চালিয়ে সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা ধ্বংস করেছে। এগুলো পাকিস্তান তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর বলে দাবি করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সীমান্ত অঞ্চলে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের একটি শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নুতে হওয়া হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিচালকদের নির্দেশে চালানো হয়েছে, এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ পাকিস্তানের হাতে রয়েছে বলেও দাবি করে মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তান বারবার তালেবান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে। কিন্তু কাবুল এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

আফগানিস্তানে বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন।

এর পরদিন বাজাউরে আরেক আত্মঘাতী হামলায় বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি একটি নিরাপত্তা পোস্টের দেয়ালে আছড়ে ফেলা হয়। এতে ১১ সেনা সদস্য ও এক শিশু নিহত হয়।

পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।

 

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জোহরের নামাজের সময় এক আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট।

কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত রাজধানীতে বোমা হামলা বিরল হলেও তিন মাসের ব্যবধানে এটি ছিল দ্বিতীয় বড় হামলা। এতে পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোয় আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শিক প্রস্তুতি আফগানিস্তানে সম্পন্ন হয়েছে।

রোববারের বিবৃতিতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা তালেবান সরকারকে ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করে। ওই চুক্তিতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। এর বড় অংশের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, টিটিপি আফগানিস্তানের ভেতর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও গোষ্ঠীটি এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তালেবান সরকারও ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, তারা পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে না।

গত অক্টোবর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষে সেনা, বেসামরিক নাগরিক ও সন্দেহভাজন যোদ্ধাসহ বহু মানুষ নিহত হয়। কাবুলে বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য আফগান কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে দায়ী করেছিলেন।

১৯ অক্টোবর কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পরবর্তী আলোচনা আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।


   আরও সংবাদ