ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ছোলার বাজারে স্বস্তি

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৫:২২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার


ছোলার বাজারে স্বস্তি

চট্টগ্রাম: বাংলাদেশি রোজাদারদের ইফতারে ছোলা চাই-ই-চাই। এ চাহিদা পূরণ করা হয় অস্ট্রেলিয়ার ছোলা আমদানির মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ৭ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৮ টন ছোলা। এর বাইরে আগের বছরের অবিক্রিত ছোলাও রয়েছে বাজারে।

  

 

ছোলার বড় আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমদানিকারকরা পাইকারদের কাছে প্রতি ছোলা মণ ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি করছেন। এ পর্যায়ে প্রতি কেজি ছোলা ৬৯ টাকা। সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির ছোলা ৭৪ টাকা। 

তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার হারভেস্টিং মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরে।

চলে নভেম্বর পর্যন্ত। এবার বাংলাদেশে ডলার সংকট না থাকায় প্রচুর এলসি হয়েছে। তাই ছোলার বাজারে সংকট হওয়ার শঙ্কা নেই। 

 

তাঁর বক্তব্যের সত্যতা মেলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হওয়া ছোলার পরিসংখ্যানে।

২০২৫ সালের জুলাইতে ছোলা এসেছে ৪৯৮ টন, আগস্টে ৮৮৩ টন, সেপ্টেম্বরে ৮৭০ টন, অক্টোবরে ৫ হাজার ১৭৭ টন, নভেম্বরে ৪২ হাজার ৩৪৩ টন, ডিসেম্বরে ৫৭ হাজার ৪৬১ টন, জানুয়ারিতে ৭৯ হাজার ৭৭১ টন এবং ১-১০ ফেব্রুয়ারি ৭ হাজার ৭৯৫ টন।  

 

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, প্রতিবছর দেশে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন ছোলা আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বেশিরভাগ ছোলা আমদানি হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে। এ বছর আমদানি স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন ছোলা খালাস হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

কিছু ছোলা পাইপলাইনে আছে। সেগুলো দ্রুত খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। রোগ ও পোকামুক্ত, কোয়ালিটি হয়েই ছাড়পত্র দিচ্ছি আমরা। এবার ছোলার বাজারে অস্থিরতা বা দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ থাকবে না। 

 

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, রমজান সামনে রেখে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আড়তে উৎসবমুখর পরিবেশে বেচাবিক্রি হচ্ছে। গত বছর যে অস্ট্রেলিয়ার ছোলা আড়তে ১০০-১০৪ টাকা, সেই ছোলা এবার বিক্রি হচ্ছে ৭৪-৭৫ টাকা। নিম্নমানের ছোলা ৭২ টাকা। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ছোলা ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এবার অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার দাম কম ও ডলার সংকট না থাকায় প্রচুর ছোলা এসেছে। যথেষ্ট এলসি খোলা হয়েছে। কোনো সংকট হবে না। পর্যাপ্ত ছোলা আছে বাজারে। রমজানের চাহিদা মিটিয়ে আরও কয়েক মাস খেতে পারবে মানুষ। 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন দেশের সবচেয়ে বড় ভোগপণ্যের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আড়তে প্রচুর ছোলার সরবরাহ। টেবিলে ছোট ছোট বাটিতে বিভিন্ন মানের ছোলার নমুনা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ছোট স্বচ্ছ বোতলে, বাটিতে পানি দিয়ে ছোলা ভিজিয়ে রেখেছেন, যাতে ক্রেতাদের সন্দেহ না থাকে। দূরদূরান্ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা কিনছেন ছোলা। 

প্রতিকেজি অস্ট্রেলিয়ার ছোলা পাইকারিতে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কাবলি ছোলা (সাদা) পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। 

কাপ্তাই রাস্তার মাথার কাজীর হাট থেকে ছোলা কিনতে এসেছেন খুচরা বিক্রেতা মোহাম্মদ লোকমান। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে ছোলা ২৫ টাকা কম। ছোলার বেচাকেনা হবে আর দুই এক দিন। এরপর আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। 

মোমিন রোডের হক স্টোরে খুচরায় ভালো মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। দোকানি জানান, সামনে দাম আরও কমতে পারে। 

আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে ছোলা কিনছিলেন গৃহিণী ইয়াসমিন আক্তার। তিনি বলেন, ছোলার দাম কম এবার। তারপরও সবার উচিত রমজানের বাজার পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে না কেনা। এতে বাজারে বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে দাম বেড়ে যায়। যদি সপ্তাহের প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার করা হয় তাহলে দাম স্থিতিশীল থাকবে। 


   আরও সংবাদ