স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩০ বার
বাংলাদেশে স্পোর্টস সরঞ্জামের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই বর্তমান সরকার দেশে একটি শক্তিশালী স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। মঙ্গলবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই স্বপ্নের কথা জানালেন আমিনুল হক।
আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ স্পোর্টস গুডস রপ্তানি করছে, অথচ আমরা এখনও অধিকাংশ ক্রীড়া সরঞ্জামের জন্য আমদানিনির্ভর। আমাদের লক্ষ্য হলো—ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট দেশে উৎপাদন করা, যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা মানসম্মত দেশীয় পণ্য ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে আমরা এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও পরিকল্পনা করছি।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি টেকসই স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক আমিনুল হক অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। খেলা চলাকালীন সময়ে খেলোয়াড়রা যথেষ্ট সম্মান ও মূল্যায়ন পেলেও ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর অনেকেই অনিশ্চয়তায় ভোগেন। সেই বাস্তবতা থেকেই সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার।
সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধাপে ধাপে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি নিজে একজন খেলোয়াড় ছিলাম, তাই জানি অবসরের পর অনেকেই হতাশায় ভোগেন। আমরা চাই, খেলা ছাড়ার পরও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকুক। প্রথম ধাপে দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া অফিসার এবং পাঁচটি বাধ্যতামূলক ইভেন্টের জন্য তিনজন করে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছি। এতে প্রায় আট হাজারের মতো পদ সৃষ্টি হবে।
’
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে।’
রাজধানীতে খেলার মাঠ তৈরির বিষয়েও ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল, ‘ঢাকা মহানগরীতে সরকারি উদ্যোগে তিন থেকে চার বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করতে চাই।’
কূটনৈতিক জটিলতায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার ইস্যুতেও সমাধানের পথে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সাম্প্রতিক ক্রিকেট ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হবে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা গেলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর থাকবে না। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সব ধরনের খেলায় কূটনৈতিক আদান–প্রদানের মাধ্যমে একটি সুন্দর স্পোর্টস পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।’
সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদদের একসঙ্গে নিয়ে আগামীর ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আমিনুল বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। সাংবাদিক, সংগঠক ও খেলোয়াড়দের—সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটি পেশাদার ও সুসংগঠিত ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তুলতে চাই।”
পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের খেলাধুলাকে বিশ্ব মানচিত্রে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্যের কথা বলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। সরকার প্রধান তারেক রহমানের ক্রীড়াবান্ধব কর্মপরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামীর দেশ গড়তে খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকটি সেক্টরে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই।