ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৬:৫২ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২১ বার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যুতে’ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।
সরকার কতগুলো বোয়িং কিনবে, কবে নাগাদ এসব কেনাকাটা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমরা ২৫টি বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র একটা ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ঘোষণা করে।
সেটার আলোকে গ্লোবালি একটা এআরটি অ্যাগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ফরওয়ার্ড করেন সব দেশের জন্য। সেটা যেভাবেই হোক চুক্তিটা লিক হয়ে যায়। সেটা থেকে এমন কোনো কিছু প্রকাশিত হয়নি, যেখানে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার কোনো বিষয় আছে বলে আমার ধারণা নেই। কোনো চুক্তির প্রারম্ভিক ক্ষেত্রে একটা ননডিসক্লোজার থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত চুক্তি না হয়।
চুক্তি সম্পাদিত হলে প্রকাশে কোনো বাধা থাকে না। ২৫টা বোয়িং বিমান কেনার জন্য আমরা যে প্রস্তাবনা দেই। এ প্রস্তাবনা ২০২৪ সাল থেকেই চলমান একটা প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে গত বছর এক কোটি ৬০ লাখের ওপরে যাত্রী পরিবাহিত হয়েছে।
এরমধ্যে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ২০ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। তার মানে প্রায় দেড় কোটির মতো যাত্রী বাংলাদেশ বিমান হারিয়েছে। এর মানে আমার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই। কারণ আমাদের ১৪টি বিমান রয়েছে সচল। এই ১৪টি বিমান দিয়ে আমাদের যে নেটওয়ার্ক বা আমাদের যে পরিকল্পনা ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৭টি বিমান দরকার।
তবে আমার ধারণা আরও বেশি দরকার।
তিনি আরও বলেন, আমরা যে চুক্তি বোয়িংয়ের সঙ্গে করতে যাচ্ছি সেখানে ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টি বিমানের কথা বলেছি। এই বিমান ক্রয়ের প্রস্তাব বোয়িং এবং এয়ারবাসকে বিশ্লেষণ করে একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে মূল্য নির্ধারণের জন্য ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে প্রধান করে একটা নেগোসিয়েশন টিম করা হয়। যে টিম এই বোয়িংয়ের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করছে। সেটা এখনও চলমান আছে, সেটা শেষ করতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, শেষ করতে না পারলে দুঃখজনকভাবে আমরা প্রক্রিয়রমেন্ট পূরণ করতে পারবো না।
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যদি দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। আমরা যে বিমান ক্রয়ের কথা বলছি সেটার দাম হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সেই দাম পরিশোধ করতে হবে ১০ বছরে। হয়তো আরও বেশি সময়, কারণ পেমেন্ট শিপমেন্ট অনেক দীর্ঘমেয়াদি। হয়তো বা ২০ বছরে দাম পরিশোধ করতে হবে। সে হিসেবে বছরে হয়তো আমাদের দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বিপরীতে রপ্তানির সম্ভাবনা এক লাখ কোটি টাকা।
এ সময় বিমান সচিব বলেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আরও চারটি (দুইটি ড্যাশ-৮ ও দুইটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০) উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। সে কারণে বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন করা না হলে বিদ্যমান রুটগুলোতে সুষ্ঠুভাবে ফ্লাইট পরিচালনা যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনাও সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সম্প্রতি আরোপিত ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক এর ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা নিরসনকল্পে সরকার ছয় বিলিয়ন বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের উদ্দেশ্যে অন্যান্য আমদানি উদারীকরণসহ ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রস্তাব করে। আট বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি ৫-৭ লাখ জনবলের কর্মসংস্থান জড়িত।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলো শত শত বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করেছে। এ বাস্তবতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নেটওয়ার্ক ও বহর সম্প্রসারণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এর ধারাবাহিকতায় উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং এবং এয়ারবাসের নিকট হতে প্রস্তাব গ্রহণ ও পর্যালোচনা কার্যক্রম শুরু করে। উভয় কোম্পানির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে টেকনো ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বোয়িং এর সঙ্গে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে কোনো কোনো গণমাধ্যম উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়টি তড়িঘড়ি করে সম্পাদিত হচ্ছে মর্মে অভিযোগ করেছে। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালে শুরু হওয়া উড়োজাহাজ ক্রয়ের কার্যক্রম অদ্যাবধি চলমান রয়েছে।