ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩১ বার
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে একটি নির্দিষ্ট ও টেকসই জায়গায় স্থিতিশীল হলে সরকার দেশেও মূল্য পুনঃসমন্বয়ের চিন্তা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আজ দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার ইতোপূর্বে বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। তবে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম মূল্যে স্থিতিশীল থাকলে সরকার অবশ্যই দেশেও তেলের দাম পুনঃসমন্বয় করার বিবেচনা করবে।
উপদেষ্টা বলেন, ৮ মাসে এসে সরকার যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে, সেখানে জিনিসপত্রের দাম ও জ্বালানি সংকট নিয়ন্ত্রণ করাই মূল অগ্রাধিকার। জ্বালানি তেলের দাম কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হলে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আরও জোরদার হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মূল্যস্ফীতি কমে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে।
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অটোরিকশা চালকদের ইতিবাচক কিছু দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। তবে কোনো মহল যদি অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চালু রাখার দাবি জানায় বা বিদ্যুৎ খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে সেটি স্পষ্টত ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি মিরপুরের ঘটনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সকলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। কোনো বিশেষ অভিযান নয়, সরকার প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।’
চট্টগ্রাম বন্দর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনা করেই সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে। তিস্তা প্রকল্পে নদী শাসনের পাশাপাশি বর্ষার পানি কীভাবে ধরে রাখা যায় (ওয়াটার রিটেনশন), সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করেই পদক্ষেপ নেবে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ বাজার নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান হতে পারে না। সরকার কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালালেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে— আমরা তা মনে করি না।’
তিনি জানান, বাজারে স্থায়িত্ব আনতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে এই ব্যবসার সাথে জড়িত, আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা যেন পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে পণ্যের জোগান ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দামও স্থিতিশীল থাকবে।
নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চালের বরাদ্দ ১০ কেজির স্থানে ২০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বসে ব্রিফিংয়ে জানান উপদেষ্টা।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।