ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৭ বার


অবসর সুবিধায় বড় পরিবর্তন

সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের নিট পেনশন সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে যাঁরা এরই মধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরা ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত আগের হারে পেনশন পাবেন।

 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাগুলো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। ফলে ওই তারিখ থেকে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ভোগরত কর্মচারীরাও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এসব সুবিধা পাবেন।

 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য চাকরিকাল পাঁচ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত এবং গ্রস পেনশন নির্ধারণের হার সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ২১ থেকে ৯০ শতাংশই রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর চাকরির ক্ষেত্রে গ্রস পেনশন হবে শেষ মূল বেতনের ২১ শতাংশ।

এরপর চাকরিকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেনশনের হারও বাড়বে। ১০ বছর চাকরিতে ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ২০ বছরে ৭২ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিতে ৯০ শতাংশ হারে গ্রস পেনশন নির্ধারিত হবে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে ২৪ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরিকালের পেনশন নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রাপ্য হবে। এর মধ্যে নিয়মিত অবসর, কর্মচারীর মৃত্যু, চিকিৎসা বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষিত হওয়া, পদ বিলুপ্তির কারণে ছাঁটাই এবং নির্দিষ্ট শর্তে বিভাগীয় বা বিচারিক কার্যক্রম শেষে পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যতম।

পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

নতুন কাঠামোয় ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে একজন মূল পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পেতেন, তার ওপর ভিত্তি করে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এতে সর্বনিম্ন পেনশন ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

৩০ জুন ২০২৬-এ যাঁদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম ছিল, তাঁদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিট পেনশন হবে ১৮ হাজার টাকা।

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা।

২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। তাঁদের নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা হবে।

৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। এ শ্রেণিতে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা হবে।

তবে কোনো পেনশনভোগী ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকলে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

আনুতোষিকের হার অপরিবর্তিত

সরকারি কর্মচারীদের আনুতোষিকের বিদ্যমান হারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১০ বছরের কম পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি টাকায় আনুতোষিকের হার ২৬৫ টাকা। ১০ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছরের কম চাকরিতে ২৬০ টাকা, ১৫ বছর বা তার বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম চাকরিতে ২৪৫ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে প্রতি টাকায় ২৩০ টাকা হারে আনুতোষিক দেওয়া হবে।

চাকরি পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো সরকারি কর্মচারী স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা মারা গেলে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য শেষ আহরিত তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ হারে কর্মচারী বা তাঁর পরিবার বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন

বিধবা স্ত্রীকে বছরে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে না

মৃত সরকারি কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। তবে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার সময় পুনর্বিবাহ করেননি এ মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

১৮ মাসের ছুটি নগদায়ন

অবসরের সময় অর্জিত ছুটির পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি নগদায়নের সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ছুটি নগদায়ন হিসেবে পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও ছুটি নগদায়নের ক্ষেত্রে দুই দিনের অর্ধগড় বেতনের ছুটিকে এক দিনের গড় বেতনের ছুটিতে রূপান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। অবসরকালীন মূল বেতনের ভিত্তিতে এই নগদায়ন সুবিধা পিআরএল শুরুর সময় প্রাপ্য হবে। পিআরএল ভোগ না করলেও এ আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধান, আদেশ, স্মারক ও প্রজ্ঞাপনগুলো এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী পেনশনভোগীদের নিট পেনশনের প্রাপ্যতা কার্যকর হবে।


   আরও সংবাদ