আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১১ বার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ও ফের আলোচনায় বসতে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শর্তগুলো ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে।
এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরার।
ইরানের শর্তগুলো হলো—
প্রথমত, সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ইরানের জব্দ করা অর্থ ও সম্পদ ছাড়তে হবে।
তৃতীয়ত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।
রেজাই বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের স্বার্থের জন্যও ইতিবাচক হবে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো ফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন এই ইরানি কর্মকর্তা।
আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেন রেজাই। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো ইরান চিহ্নিত করেছে এবং সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলায় তেহরান আগের তুলনায় বেশি প্রস্তুত।
রেজাই আরও বলেন, সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি ইরান জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ইরানের ওপর হামলা হলে অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পরিবর্তনের সমালোচনা করে রেজাই বলেন, আগের সমঝোতা স্মারক থেকে ওয়াশিংটন সরে যাওয়ার পর ইরানকে তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়েছে। চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও দায়ী করেন।
এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন রেজাই। তিনি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যকার সংঘাতের অবসান চান বলে জানান। তাঁর দাবি, হুতিরাও রিয়াদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
কাতার ও পাকিস্তান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই ইরানের তিন শর্ত প্রকাশ্যে আসায় পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।