ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২ বার
মাদারীপুরে একটি কোল্ড স্টোরেজে মজুদ করে রাখা প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের আলু পচে গেছে। অধিক মুনাফার আশায় দীর্ঘদিন ধরে এসব আলু মজুদ করে রাখা হয়েছিল।
এসব আলু কোল্ড স্টোরেজ থেকে বিনামূল্যে এখন গরুর খাবার হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে। কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন স্টোরেজে রাখার কারণে আলু পচে গেছে।
জানা গেছে, আলুর গুণগত মান ধরে রাখতে সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাজারে বেশি মুনাফা লাভের আশায় মীর হাবিবুর রহমান তার নিজস্ব মালিকানাধীন মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি করে ২০ হাজার বস্তা আলু মজুদ করে রাখেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও তার কাঙ্ক্ষিত আলুর উচ্চ বাজারমূল্য না থাকায় কোল্ড স্টোরেজেই পড়ে থাকে এসব আলুর বস্তা। কিন্তু এরই মধ্যে বস্তায় রাখা আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
বাধ্য হয়ে দুই দিন ধরে স্থানীয়দের গরুর খাবার হিসেবে এসব আলু বিতরণ শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন আলু মজুদ করে রাখায় মাদারীপুরের আলুর আড়তদার ব্যবসায়ীরা অন্য জেলা থেকে আলু ক্রয় করে বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। এতে ব্যবসায়ীদের আলু সংগ্রহে খরচও বেশি হয়েছে। আলু দীর্ঘদিন মজুদ করে না রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদারীপুরের তরকারির আড়তদার খবিরউদ্দিন বলেন, কোল্ড স্টোরেজে আলু পচে গেছে আলু মজুদকারীর জন্য। তিনি আলুগুলো ভালো থাকার সময়ে যদি বাজারে বিক্রি করে দিতেন, তাহলে কিছুটা হলেও আমাদের দূর-দূরান্তের জেলা থেকে ট্রাকভর্তি নষ্ট হওয়া পরিমাণ আলু আনা কম লাগত। এটা বেশি মুনাফার আশায় মজুদ করে রেখেছে। এখন তারই সবই লোকসান খাওয়া লাগল।
একই ধরনের কথা জানালেন আরও কয়েকজন আলু ব্যবসায়ী।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে নষ্ট হওয়া আলু নিতে আসা স্থানীয়রা জানান, এই আলু মানুষের পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যে থেকে বেছে বেছে যতটুকু ভালো আলু পাওয়া যাবে, সেগুলো আমরা গরুর জন্য নিতে এসেছি।
একই ধরনের কথা জানালেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আলু নিতে আসা ব্যক্তিরা। সবাই গবাদিপশুর জন্য আলু নিতে এসেছেন।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, এই আলু ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। আলু দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর টেম্পারেচার নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেললে জনদুর্ভোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই আলু এখন বিনামূল্যে খামারি ও কৃষকদের বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে নষ্ট হওয়া ২০ হাজার বস্তা আলুতে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
আলু এবং কোল্ড স্টোরেজের মালিক হাবিবুর রহমান জানান, আলু কেন নষ্ট হয়ে গেছে সেটি তিনি এখনও জানতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে তিনি মনে করছেন, কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে। তা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে এ বিষয়ের অভিজ্ঞ লোকজন এনে তিনি তা নিশ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া জানান, তিনি মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করবেন। কেন মজুদ করে বেশি দিন রাখা হয়েছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন।