ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ১৭ বছর ছেলেখেলা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৪ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩ বার


শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ১৭ বছর ছেলেখেলা হয়েছে

বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি জাতির জন্য লেখাপড়া ও শিক্ষা কতটা জরুরি, গত ১৭ বছরে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থার নানা পর্যায়ে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীসহ পুরো জাতির ওপর পড়েছে।

 

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খাতায় শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে, আর ক্ষমতাশালী জায়গা থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

 

প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতা করতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়।

প্রযুক্তির বিশ্বজগৎ থেকে আমাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখার জন্যই এসব ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার তাগিদ দেন রিজভী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বের উপযোগী করে তাদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হলে বা পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকলে কোনো জাতিই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তখনই নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলা হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শিক্ষায় যথাযথ প্রণোদনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী করে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাকে ধ্বংস করলে জাতি কোনোভাবেই এগিয়ে যাবে না।

অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।


   আরও সংবাদ