ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩৩ বার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় মাত্র আধা কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দে থমকে যাচ্ছে পুরো মহাসড়কের যান চলাচল। তিন মাস ধরে চলা অস্থায়ী সংস্কারকাজের কারণে ওই অংশে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে যানজট। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থানেও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও জমেছে পানি, কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কাদাপানি। ফলে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে যানজটের সারি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট ও বেহাল দশা। ছবি: সময় সংবাদ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার আমতলী এলাকায় সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট ও বেহাল দশা। ছবি: সময় সংবাদ
কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো যাত্রী। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে আমতলীর সংকট এখন যেন নিত্যদিনের চিত্র।
মহাসড়কের আমতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সংস্কারকাজের জন্য সড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই বিকল্প লেনও বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গর্তে পানি জমে থাকায় অনেক সময় এর গভীরতা বোঝা যায় না। কোথাও কাদাপানি ছড়িয়ে পড়েছে সড়কের ভালো অংশেও। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও নিচু প্রাইভেট কারগুলো গর্ত এড়িয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। কোনো ভারী যানবাহন গর্তে আটকে পড়লে মুহূর্তেই পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমতলী এলাকায় প্রায় তিন মাস ধরে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে সংস্কার করা অংশের আশপাশও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সংস্কার শুরু হয়নি।’
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, ‘তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু আমতলী এলাকাতেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি ভারী যানবাহন আটকে গেলে পেছনে মুহূর্তেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সওজ বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
আরও পড়ুন: সেতু ধসে পড়া ঠেকাতে বাঁশের ঠেকনা!
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচের বাসচালক মো. হাসান বলেন, ‘বাস গর্ত পার হতে পারলেও ভারী ট্রাক কিংবা প্রাইভেট কারগুলো গর্তে নামতে চায় না। তাদের ধীরগতির কারণে পুরো সড়কে জট লেগে যায়।’
‘এশিয়া লাইন’ বাসের চালক হানিফ সরকার বলেন, ‘বাস যেমন তেমন, সব জায়গা দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ভারী ট্রাক বা নিচু প্রাইভেট কার গর্তে নামতে চায় না। তাদের ধীরগতির কারণে পুরো জ্যামটা লাগে।’
ট্রাকচালক আমজাদ বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে চট্টগ্রামে আসা-যাওয়া করছি। ঢাকায় ফিরলেই এখানে আটকে যেতে হয়। ট্রাকে মালামাল বোঝাই থাকে। চাইলেও গর্তের ওপর দিয়ে চালাতে পারি না। পিঁপড়ার মতো চলতে হয়।’
যানজটে আটকে থাকা যাত্রী সোহান আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেমন টেকসই হতে হবে, তেমনি সংস্কারের আগে টেকসই বিকল্প পথও তৈরি করতে হবে।’
এ বিষয়ে সওজ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টির কারণে সংস্কারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। রোদ উঠলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।’
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র আধা কিলোমিটার অংশের দুরবস্থা এখন পুরো মহাসড়কের যান চলাচলে প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ যানজটে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও বাড়ছে ভোগান্তি। স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি আমতলী অংশের টেকসই সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।