স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ অগাস্ট, ২০২৬ ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৩ বার
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তরুণ ও উদীয়মান কমব্যাট স্পোর্টস ফাইটারদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল ‘ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি প্রেজেন্টস জুলকান বিটডাউন ০২’। উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অপেশাদার (অ্যামেচার) মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির অত্যাধুনিক কমব্যাট ভেন্যু ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’র দ্বিতীয় তলার মূল রিংয়ে দিনব্যাপী চলে রোমাঞ্চকর ও কৌশলনির্ভর এই প্রতিযোগিতা।
দেশের অ্যামেচার ফাইটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া, তাদের শারীরিক ও কৌশলগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে পেশাদার (প্রো) পর্যায়ে তুলে আনার লক্ষ্যেই টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ), বক্সিং ও কিকবক্সিং—এই তিনটি ডিসিপ্লিনে ২০টির বেশি বাউট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি লড়াই ছিল তিন মিনিটের তিনটি রাউন্ডে।
ফাইটারদের টেকনিক্যাল দক্ষতা, কৌশল এবং জয়ের তীব্র লড়াই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে।
টুর্নামেন্টের প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘সুপার ফোর অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশিপ’।
এতে সেমিফাইনালে বিজয়ী দুই ফাইটার একই দিনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘জুলকান বিটডাউন’ চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট জয়ের জন্য লড়াই করেন।
মোট আটটি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একক বাউটের বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় মেডেল।
পুরুষ ফাইটারদের পাশাপাশি নারী কিকবক্সিংয়ের ৫০ ও ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণির প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইও দর্শকদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করে।
টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর ছিল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এ ধরনের কমব্যাট স্পোর্টসে ফাইটারদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল হেলথকেয়ার পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। রিংসাইডে মেডিকেল টিমের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ফাইটারদের নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসীভাবে লড়াই করার সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া অফিসিয়াল মাস্টার অব সেরিমনি (এমসি) ওয়াহিদার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আবহ এনে দেয়।
উল্লেখ্য, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’ একটি বিশেষায়িত কমব্যাট স্পোর্টস ভেন্যু। এখানে রয়েছে পেশাদার বক্সিং রিং, আন্তর্জাতিক মানের ফুল-সাইজ এমএমএ কেজ (অক্টাগন), গ্র্যাপলিং ও রেসলিং ম্যাট এবং আধুনিক ফিটনেস সরঞ্জাম।
আরও পড়ুন
এলপিএল ফাইনালে সোহানের গল, প্রতিপক্ষ সাকিব-তাওহীদের জাফনা
এলপিএল ফাইনালে সোহানের গল, প্রতিপক্ষ সাকিব-তাওহীদের জাফনা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশনস মাসুদুর রহমান মান্না বলেন, পেশাদার পর্যায়ের ফাইটার গড়ে তুলতে হলে অ্যামেচার পর্যায় থেকেই তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ‘জুলকান বিটডাউন’-এর যাত্রা। ইনশাআল্লাহ, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে এমন পেশাদার ফাইটার তৈরি করতে পারব, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।