ঢাকা, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

খরায় বন্ধ হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


প্রকাশ: ২ অগাস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৮ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ১৫ বার


খরায় বন্ধ হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় চুল্লি শীতলীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে ৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি।

 

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার জানিয়েছেন, মধ্য হাঙ্গেরির পাকস (Paks) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রোববার থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই এ কেন্দ্র থেকে আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শুক্রবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কমে ৯৬৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। পরে রাতের মধ্যে তা আরও কমে মাত্র ২৪০ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়, যেখানে স্বাভাবিক উৎপাদন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট।

 

সোভিয়েত আমলে নির্মিত বুদাপেস্টের দক্ষিণে অবস্থিত চারটি রিঅ্যাক্টরবিশিষ্ট এই কেন্দ্রটি চুল্লি শীতল রাখতে দানিউব নদীর পানি ব্যবহার করে। তবে নদীর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি টেনে নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে কেন্দ্রটির পাম্পগুলো।

 

পাকস এলাকায় নদীর পানির স্তর মাইনাস ১৩৪ সেন্টিমিটারে নেমে এলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পানির স্তর আরও কমে মাইনাস ১৪৪ সেন্টিমিটারে পৌঁছাতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালে মাইনাস ৯৮ সেন্টিমিটার ছিল সর্বনিম্ন রেকর্ড।

জার্মানি থেকে উৎপন্ন হয়ে কৃষ্ণ সাগরে পতিত হওয়া দানিউব নদী ইউরোপের অন্যতম প্রধান নদী। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় নদীর মতো দানিউবের পানির স্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরি সরকার দেশের ১০০টিরও বেশি শহর ও গ্রামে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক পরিমাণ পানি ব্যবহার করে, তাদের স্বেচ্ছায় পানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

রেকর্ড মাত্রার এই জলবায়ুগত সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশটির নৌপরিবহন, পর্যটন, কৃষি ও শিল্প খাতেও পড়েছে। এমন পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন হাঙ্গেরির অর্থনীতি কয়েক বছর ধরেই ধীরগতির প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।

এদিকে, প্রতিবেশী স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো জানিয়েছেন, তারা হাঙ্গেরির জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা


   আরও সংবাদ