ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকট

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন | দেখা হয়েছে ৩২ বার


ফেনীতে তীব্র গ্যাস সংকট

ফেনী: ফেনীতে আবাসিক গ্যাসের তীব্র সংকট এখন আর সাময়িক সমস্যা নয়, বরং নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলায় আগুনই জ্বলে না।

দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টানা চার ঘণ্টাও মিলছে না গ্যাস।

 

ফলে রান্না করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার।

অনেকেই বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার, ইলেকট্রিক চুলা ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ আবার সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

 

কয়েক মাস ধরে চলমান এ সংকটে ফেনী শহর ও আশপাশের আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন।

দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

শুধু আবাসিক গ্রাহক নন, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে লোকসান।

ফেনী শহরের পূর্ব উকিলপাড়ার বাসিন্দা ফাহিমা আবেদীন বলেন, ‘বাসায় গ্যাসের সংযোগ আছে, কিন্তু চুলায় আগুন জ্বলে না। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ও ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি। ফলে গৃহস্থালির জ্বালানি খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।’

গদলগাজী এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এ সমস্যা এক-দুই দিনের নয়। বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না।’

আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা অপর্ণা নাথ বলেন, ‘গ্যাস তো যায় না, কালে-ভদ্রে আসে। অযথাই সংযোগটা আছে, চুলা না জ্বালিয়েই বিল দিতে হচ্ছে।’

জানা গেছে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ফেনী কার্যালয়ের আওতায় জেলার প্রায় ৩২ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের শর্তে তারা প্রতি মাসে নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও কয়েক মাস ধরে, বিশেষ করে সকাল ও দুপুরে, প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ফেনী শহরের পূর্ব উকিলপাড়া, পেট্রোবাংলা, বাঁশপাড়া, সহদেবপুর, আলোকদিয়া, পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, রামপুরসহ শহর ও আশপাশের প্রায় সব এলাকায় একই চিত্র। কোথাও গ্যাসের চাপ এত কম যে ভাত রান্না করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে, আবার কোথাও চুলায় আগুনই জ্বলে না।

ভুক্তভোগীরা জানান, ভোরে কিছুটা গ্যাস থাকলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ কমতে শুরু করে। সকাল ৭টার পর অনেক এলাকায় গ্যাস প্রায় থাকেই না। দুপুর পর্যন্ত একই অবস্থা থাকে। গভীর রাতে আবার কিছুটা গ্যাস পাওয়া যায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন পরিবারগুলো।

আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা কাজী রিয়াজ বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে গ্যাস আসে, আবার সকাল ৬টার দিকে চলে যায়। বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। এতে একদিকে লাইনের গ্যাসের বিল দিচ্ছি, অন্যদিকে সিলিন্ডারের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।’

পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার এক ভবনের মালিক জানান, তার সাততলা ভবনে ১৪টি গ্যাসের চুলা রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ভাড়াটিয়ারা গ্যাস না থাকার অভিযোগ করেন। বহুবার গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। এ অবস্থায় অনেক ভাড়াটিয়া গ্যাসের বিল পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করছেন।

একাধিক গৃহিণী জানান, সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাস্তা বা দুপুরের খাবার প্রস্তুত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বাইরের খাবার কিনতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। 
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ফেনীর পুরোনো সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।’ তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি। 


   আরও সংবাদ