ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬,
সরকার অনুমোদিত নিবন্ধন নম্বর ১৯১
Reg:C-125478/2015

চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে

ডেস্ক রিপোর্ট


প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৩৭ অপরাহ্ন | দেখা হয়েছে ২৮ বার


চোরাচালান দমনে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে

ঢাকা: সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে প্রণীত আইন অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানবপাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ (ন্যাশনাল ডিসেমিনেশন) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে নতুন এই আইনে।

সদ্য প্রণীত আইনটি আন্তঃদেশীয় এসব গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

 

তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

 

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নতুন আইনটিতে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী চোরাচালান দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিও সমুন্নত রাখা হয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ সভা আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদারের বিষয় নিয়ে মতবিনিব্যয় করেন।

বক্তারা বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণের পাশাপাশি আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তাই এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং এর প্রধান বিধানসমূহ তুলে ধরেন। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 


   আরও সংবাদ